| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চলনবিলে আগাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের ধান

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৮, ২০২৫ ইং | ০৮:৩১:৩৭:পূর্বাহ্ন  |  ২৫০৮১২১ বার পঠিত
চলনবিলে আগাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের ধান
ছবির ক্যাপশন: চলনবিলে আগাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের ধান

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :

চলনবিলে আগাম বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এ অবস্থায় সিরাজগঞ্জ অংশের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, ও তাড়াশ এ ৩টি উপজেলায় শত শত বিঘা জমির কাঁচা-পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। চলনবিলের কৃষকরা সরিষা আবাদ শেষ করে ব্রি-২৯ জাতের এই ধান আবাদ করে থাকেন। যে কারণে এই ধান কাটতেও একটু দেরি হয়।

কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমর পানিতে নেমে কৃষকদের ধান কাটতে দেখা গেছে। এসব ধান পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে নৌকা, কলার ভেলা ও পলেথিন দিয়ে তৈরী বিশেষ নৌকা। 

পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতেও দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। আবার কিছু এলাকার ডুবে যাওয়া ধান কোনোভাবেই কাটা সম্ভব হচ্ছে না।

এতে করে শত শত কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এ ছাড়া যমুনাসহ অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চল ও নিচু এলাকাগুলোতেও বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।  

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম রওশন জানান, এবার ধান ভালো ফলন হওয়ায় বাম্পার ফসলের আশা করেছিলাম। ৮ বিঘা জমিতে লাগানো প্রায় সব ধান পেঁকে গিয়েছিল।

এ অবস্থায় ঈদের ৩দিন আগে এলাকায় হঠাৎ বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় সব ধান গভীর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যা কাটাও সম্ভব হয়নি।

একই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ১০ বিঘা জমিতে ধান বুনেছিলাম। যা দিয়ে সারা বছর সংসার চলার কথা। কিন্তু ধান পাঁকার আগেই পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন কি করব চিন্তা করতে পারছি না।

উজানের নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অর্তিবর্ষণে শাহজাদপুরের নন্দলালপুর এলাকায় হুরাসাগর নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে নিমাইগাড়া বিলের প্রায় ১০০ হেক্টর জমির পাকা ও আধা পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ অঞ্চলের কৃষকরা বিলের মুখে বাঁধ নির্মাণের দাবি করলেও কেউ তা কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেন বলেন, হঠাৎ আগাম বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় নিমাইপাড়া বিলের জমিতে আধাপাকা ধান ডুবে গিয়ে কৃষকরা বিপুল পরিমাণে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। আগামী বছর কৃষকের ফসল রক্ষায় বিলের প্রবেশ মুখে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অপরদিকে, তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা সরিষা আবাদ করার পর ব্রি-২৯ জাতের ধান লাগাই। এই কারণে ধান পাকতে সময় লাগে। এ বছর টানা বৃষ্টি আর আগাম বন্যার পানি আশায় ফসলি জমি ডুবে যাচ্ছে। ১০ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম, ৫ বিঘা জমির ধান কেটেছি। বাকিগুলো এখনো কাটতে পারিনি। ধানের জমিগুলো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। বিঘা প্রতি ৭-৮ হাজার টাকা মজুরী দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ফলন ভাল হলেও এবার লোকসান গুনতে হবে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইতিমধ্যে ৯৩ ভাগ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও পানি প্রবেশ করায় বিলের নিম্নাঞ্চলের নাবি জাতের ধান কাটা নিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব ধান কাটা শেষ হবে বলে আশা করছি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসান শহীদ সরকার রবিবার বিকেলে বলেন, শাহজাদপুর উপজেলায় ৬০ বিঘা জমির ধান একটু বেশি পানিতে তলিয়ে গেছে। তাড়াশ ও উল্লাপাড়ায় এলাকায় তুলনামূলক পানি অনেক কম। কৃষকরা নৌকা নিয়ে ও পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। তবে শ্রমিকের মজুরি একটু বেশি লাগছে। ইতোমধ্যে পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে পানি নেমে গেলে কৃষকরা কম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এ ছাড়া চরাঞ্চল ও যমুনা নদীর তীরের নিচু জমিগুলোতে কাউন ও তিল নদীর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এই উপপরিচালক।



.

রিপোর্টার্স২৪/এস

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪