রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: অনেকে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়াকে ক্লান্তি, স্ক্রিনে দীর্ঘক্ষণ নজর রাখার বা ঘুমের অভাবের ফল মনে করেন। কিন্তু এক চোখের দৃষ্টি হঠাৎ ঝাপসা হলে তা হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি চোখ বা শরীরের গুরুতর রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে ভবিষ্যতে স্থায়ী দৃষ্টিহীনতার ঝুঁকি থাকে।
কখন ঝাপসা দৃষ্টি বিপদের সংকেত?
চিকিৎসকরা জানান, কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য দৃষ্টি ঝাপসা হলে তা বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত হতে পারে। প্রধান কারণগুলো হলো:
১. রেটিনাল ডিটাচমেন্ট চোখের রেটিনা স্থানচ্যুত হওয়া।
২. চোখে স্ট্রোক রেটিনার ধমনিতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া।
৩. অপটিক নিউরাইটিস চোখের স্নায়ুর প্রদাহ।
৪. অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা চোখের চাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া।
৫. মস্তিষ্কে স্ট্রোক চোখের সমস্যা কখনও কখনও আসলে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বা রক্ত চলাচলের সমস্যা।
নিজের রোগ নির্ণয় করবেন না
দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার সব ক্ষেত্রে বিপজ্জনক নাও হতে পারে। চোখ শুষ্ক হওয়া, মাইগ্রেন, রক্তে শর্করার ওঠানামা বা চশমার পাওয়ার পরিবর্তনেও এমন হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি।
বেশি ঝুঁকিতে কে?
যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা রক্তনালির সমস্যা রয়েছে। হঠাৎ ঝাপসা দেখার সঙ্গে যদি হাত-পা দুর্বল, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা মাথা ঘোরা দেখা দেয়, তবে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে।
কখনোই উপেক্ষা করবেন না এমন লক্ষণ
১. চোখে তীব্র ব্যথা বা লালচে ভাব
২. আলোর ঝলকানি বা চোখের সামনে ভাসমান কালো দাগ
৩. তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে বমি ভাব
৪. হঠাৎ এক চোখে দেখার ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারানো
৫. শরীরের একদিকে দুর্বলতা বা কথা বলতে অসুবিধা
কেন দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন?
দক্ষ বিশেষজ্ঞ ও আধুনিক পরীক্ষার মাধ্যমে রেটিনার সমস্যা বা স্নায়ুর প্রদাহ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী অন্ধত্ব এড়ানো যায়। তাই চোখের এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম