| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ট্রাম্পের নতুন ১৫% শুল্ক নিয়ে বিতর্ক, অর্থনীতিবিদদের মতে ‘সংকট’ নেই

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২৬ ইং | ০৮:০৫:১১:পূর্বাহ্ন  |  ১৩৭৭১৫৫ বার পঠিত
ট্রাম্পের নতুন ১৫% শুল্ক নিয়ে বিতর্ক, অর্থনীতিবিদদের মতে ‘সংকট’ নেই
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হওয়া শুল্কের পরিবর্তে নতুন করে ১৫ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছেন। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, যে ‘ব্যালান্স অব পেমেন্টস’ সংকটের যুক্তিতে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, বাস্তবে তেমন কোনো সংকট নেই।

মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে, যা ১৫০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর আগে আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) ব্যবহার করে আরোপিত ১০ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।

এরপর ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক ঘোষণা করেন। এই ধারা আগে কখনও ব্যবহার করা হয়নি। এতে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করতে পারেন, যদি “বড় ও গুরুতর” ব্যালান্স অব পেমেন্টস ঘাটতি বা আন্তর্জাতিক পরিশোধ সংকট দেখা দেয়।

হোয়াইট হাউসের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি, জিডিপির ৪ শতাংশ সমপরিমাণ চলতি হিসাব ঘাটতি এবং প্রাইমারি আয়ের ভারসাম্যে নেতিবাচক অবস্থান এসবই গুরুতর সমস্যা নির্দেশ করে।

তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাবেক ফার্স্ট ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর গীতা গোপীনাথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ব্যালান্স অব পেমেন্টস সংকটে নেই। এ ধরনের সংকটে দেশগুলো আন্তর্জাতিক ঋণের খরচে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে প্রবেশাধিকার হারায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৬০ সালের পর প্রথমবার প্রাইমারি আয়ের ঘাটতি তৈরি হওয়া বড় ধরনের সংকটের প্রমাণ নয়; বরং গত এক দশকে বিদেশিদের মার্কিন শেয়ার ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বড় বিনিয়োগই এর কারণ।

সাবেক মার্কিন ট্রেজারি ও আইএমএফ কর্মকর্তা মার্ক সোবেন এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের জশ লিপস্কিও বলেন, স্থিতিশীল ভাসমান ডলার বিনিময় হার, ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের স্থিতিশীল ফলন ও শক্তিশালী শেয়ারবাজারের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৃত অর্থে ব্যালান্স অব পেমেন্টস সংকট নেই। তাদের মতে, বাণিজ্য ঘাটতি আর পরিশোধ সংকট এক বিষয় নয়।

তবে কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের ব্র্যাড সেটসার ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান চলতি হিসাব ঘাটতি ১৯৭১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনর শুল্ক আরোপের সময়কার তুলনায় বেশি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নেট আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ অবস্থানও দুর্বল হয়েছে। ফলে প্রশাসনের যুক্তির একটি ভিত্তি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আইনি চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা

বিচার বিভাগ আগে আদালতে বলেছিল, বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় ১২২ ধারা উপযুক্ত নয়। ফলে প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান নতুন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সুপ্রিম কোর্টে IEEPA শুল্কের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী নিল কাটিয়াল বলেন, প্রশাসন যদি এমন একটি আইন ব্যবহার করে, যা তাদের নিজস্ব বিচার বিভাগই আগে অপ্রাসঙ্গিক বলেছিল, তবে তা সহজেই আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য হবে।

লিবার্টি জাস্টিস সেন্টারের সারা আলব্রেখট জানান, তারা নতুন আইনি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য আগে আদায়কৃত শুল্কের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করা।

সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে শুল্ক ফেরত বিষয়ে কোনো নির্দেশ দেয়নি; বরং বিষয়টি নিম্ন আদালতে পাঠিয়েছে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য।বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতি অর্থনৈতিকের পাশাপাশি আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কও আরও তীব্র করতে পারে।রয়টার্স 

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪