ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে একটি কলেজের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মেদনীসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ বোর্ডে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বিকেলে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জামাল উদ্দীনের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি এবং আরও ৩০–৪০ জন অজ্ঞাতনামা লোক ইউএনওর কক্ষে ঢুকে নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্র টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যান। এ সময় উপস্থিত শিক্ষক ও প্রতিনিধিরা বাধা দিলে তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
হামলাকারীরা নিয়োগ–সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র-রেজুলেশন খাতা, নোটিশ খাতা, ফলাফল শিট, মৌখিক পরীক্ষার স্বাক্ষর শিট, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং জনবল কাঠামোর কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে মো. জামাল উদ্দীনসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩০–৪০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে হরিপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদা দাবি ও নারী শিক্ষককে লাঞ্ছনার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জামাল উদ্দীন,মোঃ মোকলেসুর রহমান, মোঃ এরফান আলী, মোঃ ফারুক, মোঃ মাসুদ রানা, মোঃ উজ্জল, মোঃ আসিফ, মোঃ মনিরুজ্জামান, কাদীর কম্পিউটার এবং মোঃ শরিফসহ আরও ৩০–৪০ জন অজ্ঞাতনামা।
জানা যায়, উপস্থিত শিক্ষক মোছা. মোতাহারা পারভীনকে বাধা দিতে গেলে তাঁকে টানাহেঁচড়া করে ফেলে দেওয়া হয় এবং তাঁর শালীনতাহানি করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান।
হরিপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) শরীফুল ইসলাম বলেন, ছিনিয়ে নেওয়া কাগজপত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু