ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় একটি কারিগরি কলেজের নিয়োগ বোর্ডে হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় উপজেলা যুবদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটলেও আজ রোববার বিকেল পর্যন্ত খোয়া যাওয়া নথিপত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রোববার বিকেলে তাকে ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এ হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। আদালতের বিচারক মো. তাহমীদুর রহমান আগামী সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ (২৬)। তিনি হরিপুর উপজেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক এবং মামলার ৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলামের কার্যালয়ে মেদনীসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদের নিয়োগ পরীক্ষা চলছিল। বোর্ডে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ১ নম্বর আসামি হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জামাল উদ্দীনের নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জন লোক অতর্কিতভাবে ইউএনওর কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা নিয়োগ কার্যক্রমে বাধা দেন এবং বাদীর কাছে চাঁদা দাবি করেন।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা নিয়োগ পরীক্ষার রেজুলেশন খাতা, ফলাফল শিট, নোটিশ খাতা এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ মূল নথিপত্র ছিনিয়ে নেন। বাধা দিতে গেলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ এবং প্রভাষক মোতাহারা পারভীনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আসামিরা নথিপত্র নিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫-৪০ জনকে আসামি করে হরিপুর থানায় মামলা করেন। গত শনিবার রাতে হরিপুরের জাদুরাগী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা শরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হরিপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাজ্জাদুজ্জামান জানান, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে আজ রোববার পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েও ছিনতাই হওয়া নথিপত্রগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নথিপত্র উদ্ধার এবং বাকি আসামিদের অবস্থান জানা সহজ হবে।
হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাকিম আজাদ জানান, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন