ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে এক আসামিকে আদালত থেকে জামিন করিয়ে আনার জেরে সেই আসামির হাতেই নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন মো. সাদেকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক আইনজীবীর সহকারী। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত এবং পরবর্তীতে রামদা দিয়ে কুপিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এই ঘটনায় আজ শুক্রবার বিকেলে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী সাদেকুল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুই দফায় পৌরসভাস্থ ১২ নম্বর ওয়ার্ডের হরিহরপুর এবং যুব উন্নয়ন সংস্থার মাঠ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। মামলার আসামিরা হলেন—মো. কুদরত আলী (৩২), মোছা. দুলালী বেগম (২৪) ও মো. ময়নুল ইসলাম (৩৫)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী সাদেকুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. গফফারের অধীনে কর্মরত। প্রধান আসামি মো. কুদরত আলী একটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে ছিলেন। কুদরত আলীর পরিবারের অনুরোধে সাদেকুল আইনি প্রক্রিয়ায় গত ২৫ মার্চ তাকে জামিন পাইয়ে দেন। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল।
গত ২ এপ্রিল আসামি কুদরত আলী ও তার স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে সাদেকুল তা মেটাতে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কুদরত আলী তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে ভারী পাথর দিয়ে সাদেকুলের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ওই দিন রাতেই তিনি সস্ত্রীক ঠাকুরগাঁও রোড এলাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।
রাত আনুমানিক ৮টার দিকে যুব উন্নয়ন সংস্থার মাঠসংলগ্ন রাস্তায় পৌঁছালে কুদরত আলী ও তার সহযোগীরা ওত পেতে থেকে তাদের পথরোধ করে। পূর্ব শত্রুতার জেরে কুদরত আলী হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে সাদেকুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে ডান পাঁজরে কোপ দেন। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে গেলে তার দুই হাত ও কনুইতে উপর্যুপরি কোপে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর সুমন আহমেদ জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা চলছে।