ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃতদের মধ্যে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে এক কলেজছাত্রের আত্মহত্যা, বিষপানে এক বৃদ্ধের মৃত্যু এবং নিখোঁজের একদিন পর পুকুর থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল ১০টার মধ্যে এই ঘটনাগুলো ঘটে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
পরীক্ষায় ফেল ও মায়ের সঙ্গে অভিমান
ভূল্লী থানার দেবীপুর ইউনিয়নের মুজাবর্নী গ্রামে অনার্স পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে অচিন্ত রায় (২৫) নামের এক তরুণ আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের ছাত্র ছিলেন। স্বজনরা জানান, পরীক্ষায় ফেল করার পর থেকে অচিন্ত সবসময় মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকতেন। সোমবার দিবাগত রাতে তার মা আরতী রানী সরকার তাকে বিয়ে করার কথা বললে তিনি মায়ের সঙ্গে অভিমান করেন। পরে রাত ২টার দিকে ঘরের তীরের সঙ্গে নাইলনের রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অসুস্থতা সইতে না পেরে বিষপান
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে তসির উদ্দীন (৬২) নামের এক বৃদ্ধ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের ছেলে আব্দুল লতিফ জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। বহু চিকিৎসা করিয়েও সুস্থ না হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সোমবার সকালে পরিবারের সবার অগোচরে তিনি কীটনাশক পান করেন। আজ মঙ্গলবার দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুকুরে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ
এদিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বানাগাঁও গ্রামে নিখোঁজের একদিন পর কনি রাম সিংহ (৫৭) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর পরিবার জানায়, কনি রাম গত এক মাস ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত রবিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি আর ফেরেননি। সোমবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি পুকুরে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। ধারণা করা হচ্ছে, ভারসাম্য হারিয়ে তিনি পুকুরে পড়ে ডুবে মারা গেছেন।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বুলবুল ইসলাম বলেন, বালিয়াডাঙ্গীতে পৃথক দুটি ঘটনায় দুটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। অন্যদিকে ভূল্লী থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, সেখানেও এক তরুণের আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তিনটি ঘটনার কোনোটিতেই পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ কবরস্থ ও সৎকারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু