| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রয়টার্স প্রতিবেদন

যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেই ‘স্থায়ী যুদ্ধ’ কৌশলে ইসরায়েল

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০৯, ২০২৬ ইং | ২২:৪১:১১:অপরাহ্ন  |  ৮১৬১৮ বার পঠিত
যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেই ‘স্থায়ী যুদ্ধ’ কৌশলে ইসরায়েল
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি ,রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার আলোচনায় ব্যস্ত, তখন ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোতে নিজেদের অবস্থান জোরদার করছে।

বিশ্লেষক ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলের নিরাপত্তা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন দেশটি গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে, যা তাদের মতে ভবিষ্যৎ হামলার ঝুঁকি কমাবে।

এই নতুন কৌশলের মূল ধারণা হলো,শত্রুপক্ষকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, বরং তাদের দুর্বল ও ছত্রভঙ্গ করে রাখতে হবে। কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর বিশ্লেষক নাথান ব্রাউন বলেন, ইসরায়েল এখন এমন এক ‘স্থায়ী যুদ্ধ’ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে, যেখানে প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই মূল লক্ষ্য।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, ইসরায়েল জানিয়েছে তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে। মার্চের শুরুতে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে দক্ষিণ লেবানন-এ স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল এবং লিতানি নদী পর্যন্ত একটি বাফার জোন তৈরির চেষ্টা করছে, যা দেশটির প্রায় ৮ শতাংশ ভূখণ্ডজুড়ে বিস্তৃত।

ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকে কয়েক লাখ মানুষকে সরিয়ে দিয়েছে এবং অনেক গ্রামে ঘরবাড়ি ধ্বংস করছে, যেগুলোকে তারা হিজবুল্লাহর অবস্থান হিসেবে চিহ্নিত করছে। সামরিক সূত্রের দাবি, সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ ঘরেই অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলের এই কৌশল অনুযায়ী, সীমান্ত থেকে ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত এলাকা ‘পরিষ্কার’ করে সেখানে একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে, যাতে সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি শহরগুলো রকেট হামলার আওতার বাইরে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি এক বার্তায় জানান, গাজা, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েল ইতোমধ্যে সীমান্তের বাইরে বিস্তৃত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।

তবে এই কৌশল নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ সামরিক প্রয়োজন ছাড়া বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।

এদিকে, ইসরায়েলের ভেতরেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি নিয়ে সংশয় বাড়ছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, খুব কম সংখ্যক ইসরায়েলি নাগরিকই মনে করেন যে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, বাফার জোন কৌশল স্বল্পমেয়াদে নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি সেনাবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪