| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ, সমঝোতা ছাড়াই দেশে ফিরল দুই পক্ষ

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১২, ২০২৬ ইং | ১৪:২৭:০৮:অপরাহ্ন  |  ৫২৩১২ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ, সমঝোতা ছাড়াই দেশে ফিরল দুই পক্ষ
ছবির ক্যাপশন: ছবি রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ছয় সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠকেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার পর রোববার (১২ এপ্রিল) কোনো চুক্তি ছাড়াই নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল। এতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আমরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য বেশি খারাপ খবর। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের পথ থেকেও ইরানকে সরে আসতে হবে এটাই মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত’ দাবির কারণেই চুক্তি সম্ভব হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও হরমুজ প্রণালী এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত কমাতে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়।

এটি ছিল ইসলামী বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক এবং এক দশকের বেশি সময় পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর জামাতা জ্যারেড কুশনার। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।আলোচনার সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও মনোভাবের ওঠানামা ছিল বলে পাকিস্তানি একটি সূত্র জানিয়েছে।

ইরানের প্রধান দাবির মধ্যে ছিল,হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধক্ষতিপূরণ, বিদেশে জব্দ থাকা অর্থ মুক্ত করা এবং লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যদিও সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির মধ্যে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে, এখনও শতাধিক জাহাজ সেখানে আটকে রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার মাঝেই বলেছেন, চুক্তি হোক বা না হোক, আমাদের কিছু যায় আসে না,আমরা ইতোমধ্যেই জিতেছি।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে এই সংঘাত শুরু হয়, যা এখন পর্যন্ত হাজারো প্রাণহানির কারণ হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪