আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের অবসান নিয়ে আশাবাদ বাড়ছে। কূটনৈতিক তৎপরতায় কিছু অগ্রগতি হলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে মৌলিক মতপার্থক্য এখনো দূর হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির তেহরান সফরের পর আলোচনায় নতুন গতি এসেছে বলে জানা গেছে। ইসলামাবাদে আগের দফার বৈঠক ব্যর্থ হলেও নতুন করে সংলাপ শুরু ও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহী।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, একটি সম্ভাব্য চুক্তি হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে, যার মাধ্যমে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।
তবে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের জন্য সব ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে ইরান ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য সীমিত সময়ের স্থগিতাদেশে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
এছাড়া ওয়াশিংটন চায় ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হোক। বিপরীতে তেহরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
শান্তি আলোচনায় লেবানন পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘর্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনর মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো যোগাযোগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
হরমুজ প্রণালী আংশিক বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত বিশ্বকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে।
তবে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আশায় ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি এবং তেলের দামে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতা না হলে চূড়ান্ত চুক্তি করা কঠিন হবে। তবুও উভয় পক্ষের আলোচনায় ফেরার আগ্রহ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি