রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের তারাগঞ্জে প্রেম করে বিয়ে করার অপরাধে বাবার বাড়িতে শিকলে বেঁধে রাখা এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের মাছুয়াপাড়া গ্রামে যৌথ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় তাকে। পরে ওই কিশোরীকে সমাজসেবা দফতরের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে পুনর্বাসন কেন্দ্রে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বাহাগিলী গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মাহাবুব আলম মুন্নার সঙ্গে ওই কিশোরীর গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। তিন মাস আগে তারা বিয়ে করে শুরু করেন সংসার, ভালোই চলছিল সংসার। সম্প্রতি পরিবারের সম্মতির আশ্বাসে কিশোরীকে বাবার বাড়িতে নেওয়া হলে সেখানে আটকে রাখে তাকে। ওই কিশোরী দুই দিন পর স্বামীর বাড়িতে ফিরে যেতে চাইলে বাধা দেয় পরিবার। একপর্যায়ে তাকে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় ঘরের ভেতরে।
কিশোরীর শ্বশুর মজনু মিয়া অভিযোগ করেন, মেয়ের পরিবার প্রথমে বিয়ে মেনে নেওয়ার কথা বললেও পরে প্রতারণা করে নিয়ে যায় তাকে এবং আটকে রাখে। বাপের বাড়ি থেকে না আসায় পরে ছেলে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে জানতে পারে, তার স্ত্রীকে শিকল দিয়ে রাখা হয়েছে বেঁধে এবং করা হয়েছে মারধরও। এরপর থানায় তার ছেলে অভিযোগ দিলে তাকে উদ্ধার করে প্রশাসন।
তবে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে কিশোরীকে এবং হস্তান্তর করা হয়েছে সমাজসেবা দফতরে।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে শিকলে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় কিশোরীকে। পরে তাকে উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে রংপুরের সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে। ওই কিশোরীর বয়স ১৭ বছর ৯ মাস হওয়ায় বিয়েটি নিবন্ধিত হয়নি আইনগতভাবে। তাই ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে রাখা হবে পুনর্বাসন কেন্দ্রে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব