| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শার্শায় চাঁদা না পেয়ে হামলা-ভাঙচুর, গ্রাম ছাড়ছেন ভুক্তভোগীরা

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৪, ২০২৬ ইং | ১৬:৫২:০১:অপরাহ্ন  |  ২৪৪ বার পঠিত
শার্শায় চাঁদা না পেয়ে হামলা-ভাঙচুর, গ্রাম ছাড়ছেন ভুক্তভোগীরা

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের কন্দর্পপুর মানিকআলী গ্রামে চাঁদা না পেয়ে দফায় দফায় হামলা, মারপিট ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে।

শনিবার ও রবিবার রাতে এ তাণ্ডব এবং ক্রমাগত হুমকিতে গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমনকি জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় অনেক ভুক্তভোগী পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কন্দর্পপুর গ্রামের মৃত নূর বক্স মণ্ডলের ছেলে ইহান আলী (৪৮) ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে শনিবার রাতে দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হঠাৎ মৃত ইসমাইল আলীর ছেলে মিজানুর রহমানের বাড়িতে চড়াও হয়। সেখানে তারা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। মিজানুর রহমান চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সন্ত্রাসীরা তাকে, তার স্ত্রী এবং তার প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করে।

একই রাতে ওই বাহিনী কৃষক আব্দুস ছাত্তারের বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরদিন রবিবার রাতে রসুল মিয়া নামে অপর এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা না পেয়ে তাকেও মারধর করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে হারুন নামে এক ব্যক্তির স্ত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

গ্রামবাসীর দাবি, ইহান আলী ও তার বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে সন্ধ্যার পর গ্রামের নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ঘর থেকে বের হতে পারেন না। এমনকি প্রাকৃতিক প্রয়োজনেও তারা ঘরের বাইরে যাওয়ার সাহস পান না।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও দীর্ঘদিনের চিহ্নিত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা কীভাবে এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে? বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এলাকা শাসন করলেও বর্তমানে তার এই “খুঁটির জোর” কোথায়—তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিজামপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা জানান, ইহান আলীর বিরুদ্ধে তাদের কাছেও অভিযোগ এসেছে। এসব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে একাধিকবার ইহান আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যশোর নাভারণ ‘ক’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন জানান, ইতিমধ্যে কন্দর্পপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। নতুন করে কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪