শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আশরাফুল ইসলাম (৩৩) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। সোমবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার খরিয়াকাজীরচর ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত আশরাফুল ওই এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে। আহতরা হলো মাদারপুর এলাকার মাহালম (৪৫), শরিফ (১৮), শামিম (২৮), নজরুল (১৮), আজিরন (৮০), হাজেরাসহ অন্তত ১৫ জন। আহতদের মধ্যে ৫ জন গুরুতর অবস্থায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীবরদী উপজেলার মাদারপুর এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আমিনের সাথে একই এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে আশরাফুল ইসলামের দীর্ঘ দিন যাবত জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।
গত ১৬ মে শনিবার রাতে নুরুল আমিন মেম্বার তার লোকজন নিয়ে ১৬ মে রাতে আশরাফুল ইসলামের বাড়িতে হামলা করে তাদের মারপিটের পর ভ্যানগাড়িসহ বসতবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। ওই ঘটনার জেরে সোমবার সকালে পুনরায় আশরাফুল ও নুরুল আমিন মেম্বারদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে আশরাফুল ইসলামসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়।
পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নুরুল আমিন মেম্বারের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিয়ন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোফাজ্জল হোসেন বিদ্যুৎ বলেন, সোমবার সকাল ১১ টার দিকে মারামারির ঘটনায় বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে আসে। এর মধ্যে একজনকে আমরা মৃত অবস্থায় পাই। এছাড়া গুরুতর তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আর দুজন সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলমান।
এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান ভূঞাঁ বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারিতে একজন নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু