| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাংলাদেশি পরিচয় নির্ধারণের একটি মামলায় গৌহাটি হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৫, ২০২৫ ইং | ০০:০০:০০:পূর্বাহ্ন  |  ১৭৮৫০৯৯ বার পঠিত
বাংলাদেশি পরিচয় নির্ধারণের একটি মামলায় গৌহাটি হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশি পরিচয় নির্ধারণের একটি মামলায় গৌহাটি হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি :

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গৌহাটি হাইকোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ বাতিল করেছে, যেখানে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সমক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো বিদেশি পরিচয় নির্ধারণের একটি মামলা বাতিল করতে অস্বীকার করা হয়েছিল। 


সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, পূর্বের রায় চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক হওয়ায় নতুন মামলা ‘রেস জুডিকাটা’ বা ‘নিষ্পত্তিকৃত বিষয়’ নীতির পরিপন্থী এবং আইনের অপব্যবহার।


বিচারপতি মনোজ মিশ্র এবং বিচারপতি কে.ভি. বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চ এক রায়ে জানায়, “একবার যখন স্পষ্ট যে পূর্বের এক রেফারেন্সে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ শুনানির পর বাদীকে বিদেশী নন বলে ঘোষণা করেছে, তখন পুনরায় একই বিষয়ে নতুন মামলা শুরু করার কোনো বৈধতা নেই। যেহেতু পূর্বের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি কিংবা তা প্রত্যাহারের আবেদনও করা হয়নি, তাই দ্বিতীয় মামলা গ্রহণযোগ্য নয়।” 


এই মামলায় আবেদনকারী ছিলেন আসামের নলবাড়ির বাসিন্দা তারাবানু খাতুন ওরফে তারাবানু বিবি। ২০১৬ সালে মুকালমুয়া ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল তাকে বিদেশি ঘোষণা করার উদ্দেশ্যে একটি মামলা চালায়। অভিযোগ ছিল তিনি ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর পর বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) থেকে ভারতে এসেছেন তিনি। 


ট্রাইব্যুনাল সেই অভিযোগ খারিজ করে জানায়, তারাবানু খাতুন ভারতীয় নাগরিক।আদেশে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছিল যে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সাক্ষী পেশ করেনি। বরং তারাবানু তার পিতামাতার ১৯৬৬ ও ১৯৭০ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকার নথি এবং নিজের ১৯৮৫ সাল থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রমাণ জমা দেন। 


পাশাপাশি, ১৯৭৯ সালে চানু শেখের সঙ্গে বিবাহবন্ধনের সাক্ষ্য-প্রমাণও পেশ করেন। ট্রাইব্যুনাল এসব তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মেনে নিয়ে জানায় যে তিনি ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬-এর ৯ ধারার অধীনে প্রমাণের বোঝা বহন করতে সক্ষম হয়েছেন।


এরপরও, ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে নতুন করে নোটিশ জারি করা হয় এবং ২০১৮ সালে আবারো একটি মামলা নথিভুক্ত হয়। এই দ্বিতীয় মামলার বিরুদ্ধে তিনি গৌহাটি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। 


হাইকোর্ট যদিও পূর্বের আদেশকে স্বীকৃতি দেয়, তবু জানায় যে দ্বিতীয়বারের কার্যধারায় তিনি আবার আপত্তি উত্থাপন করতে পারেন। এই আদেশের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন তারাবানু খাতুন। 


তার পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট পি.ভি. সুরেন্দ্রনাথ যুক্তি দেন যে একবার ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল নাগরিকত্ব স্বীকার করে নিলে একই অভিযোগে দ্বিতীয় মামলা চালানো যায় না। তিনি ‘আব্দুল কুদ্দুস বনাম ভারত সরকার’ মামলার দৃষ্টান্ত পেশ করেন, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেছিল যে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক এবং রেস জুডিকাটার শর্ত পূরণ করে।


অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট দেবজিৎ বরকাকাতি দাবি করেন যে প্রথম আদেশটি অস্পষ্ট এবং সাক্ষ্য বিশ্লেষণের ঘাটতি ছিল, ফলে তা বাধ্যতামূলক নয়।


সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি খারিজ করে জানায়, “যদি আদেশে ভুল থাকেও, তা চ্যালেঞ্জ করা যেত উচ্চ আদালতে বা প্রাসঙ্গিক আইনি প্রক্রিয়ায়। কিন্তু নতুন করে মামলা দায়ের করার চেষ্টা সরাসরি আইনের অপব্যবহার।”


ফলে আদালত ২০১৮ সালের দ্বিতীয় মামলা বাতিল ঘোষণা করে এবং ২০২৩ সালের ৩১ মে গৌহাটি হাইকোর্টের আদেশও বাতিল করে দেয়। যেখানে হাইকোর্ট দ্বিতীয় মামলা রদ করতে অস্বীকার করেছিল। 


এই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে যে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের বৈধ ও চূড়ান্ত আদেশকে উপেক্ষা করে নতুন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে না, এবং তা রেস জুডিকাটার নীতিকে লঙ্ঘন করে।


রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪