| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পল্লবীতে রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২২, ২০২৬ ইং | ১৪:৩৭:২৭:অপরাহ্ন  |  ৩৯৯০৮ বার পঠিত
পল্লবীতে রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের ধর্ষণের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঢেউ অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার কয়েক দিন পার হলেও এলাকাবাসীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিচার দাবির সুর আরও জোরালো হচ্ছে।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন–১১ এলাকার রামিসার বাসার সামনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হতে থাকেন। ছোট ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে সেখানে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকার গলিতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে দাঁড়ান। সেখানে লেখা ছিল—“রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই”, “শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই” ইত্যাদি।

এ সময় পুরো এলাকায় এক ধরনের থমথমে ও শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামের এক নারী বলেন, “আমরা এখন নিজেদের সন্তানদের নিয়েই আতঙ্কে আছি। একটি শিশুকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন রামিসার বাবা-মা। শুক্রবার দুপুরে কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে তারা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা-এর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রামিসার দাফন সম্পন্ন হয়। দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

মা এখনও মেয়ের ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের স্মৃতি ও শেষ আবদারের কথা মনে করে অসাড় হয়ে পড়ছেন।

স্বজনরা আরও জানান, মাত্র দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি নতুন বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন–১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা নিখোঁজ হয়। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করে। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। একই ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার পর থেকেই রাজধানীজুড়ে শিশু নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


রিপোর্টার্স২৪/ ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪