আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি :
ভারতের কাশ্মীরের হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প—সালাল ও বাগলিহার—এ জলাধারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জল ছাড়ার (ফ্লাশিং) কাজ শুরু করেছে। যা ১৯৬০ সালের ইন্দাস পানি চুক্তির বাইরে ভারতের প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নয়াদিল্লি এই পদক্ষেপের আগে ইসলামাবাদকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা দেয়নি।
গত মাসে কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের দায়ী করা হয়। ইন্দাস চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ঝিলম, চেনাব ও ইন্দাস নদীর ওপর নির্ভর করে, যা দেশটির ৮০% কৃষিজমির জন্য জল সরবরাহ নিশ্চিত করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১ মে থেকে তিন দিন ধরে জলাধারে জমে থাকা পলি সরাতে ব্যাপক জল ছাড়া হয়, যা উৎপাদন বাড়াতে এবং টারবাইনের ক্ষয় ঠেকাতে সহায়ক হবে। তবে এই পদক্ষেপে পাকিস্তানের কোনো সম্মতি না নেওয়ায় চুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লাশিং অপারেশন সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা নদীর নিম্নপ্রবাহে হঠাৎ বন্যা ঘটাতে পারে, যা প্রতিবেশী দেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ইন্দাস চুক্তি অনুযায়ী, এ ধরনের যে কোনো কার্যক্রমের আগে পাকিস্তানকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এবার তা মানা হয়নি।
উল্লেখযোগ্য যে, সালাল ও বাগলিহার প্রকল্প নির্মাণের সময় পাকিস্তানের সাথে বহু বছর ধরে তীব্র কূটনৈতিক আলোচনার প্রয়োজন হয়েছিল।
ইন্দাস চুক্তি অনুযায়ী ভারত তার নিজস্ব তিনটি নদী—সাতলেজ, বিয়াস ও রাভি—সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ঝিলম, চেনাব ও ইন্দাসে বড় ধরনের জলাধার নির্মাণে বিধিনিষেধ ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তি বাতিল না হলেও ভারত এখন তার প্রকল্পগুলো একতরফাভাবে এগিয়ে নিতে পারবে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন জল-উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব