রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহার পরদিন রাজধানী ঢাকা এখনও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি। অধিকাংশ মানুষ গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করায় নগরজুড়ে বিরাজ করছে ফাঁকা ও নিস্তব্ধ পরিবেশ। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে, যেখানে ক্রেতা প্রায় নেই বললেই চলে।
শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর শেওড়াপাড়া, তালতলাসহ একাধিক কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোর অর্ধেকেরও বেশি দোকান এখনও বন্ধ। ঈদের ছুটি ও ঢাকার বাইরে অবস্থানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী দোকান খুলতে পারেননি। যারা দোকান খুলেছেন, তারাও ক্রেতাহীন অবস্থায় অলস সময় পার করছেন।
শেওড়াপাড়া বাজারের সবজি বিক্রেতা আলম বলেন, “ঈদের পর বাজারে একদমই কাস্টমার নেই। মানুষ না ফিরলে বিক্রি হবে না। দিনে দুই-চারজন যে আসছে, তারাও খুব অল্প কিনছেন। আমরা শুধু বসে সময় পার করছি।”
তবে সরবরাহ সংকটের কারণে বাজারে সবজির দামও বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, ঈদের ছুটির কারণে দূর-দূরান্তের জেলা থেকে পণ্যবাহী ট্রাক কম আসছে। ফলে আড়তে পণ্যের সরবরাহ কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
বাজারে দেখা যায়, বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকায়। এছাড়া টমেটো ১০০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারেই দাম বেশি থাকায় খুচরায়ও তা বেড়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, চাহিদা কম থাকলেও সিন্ডিকেট ও সরবরাহ সংকটের অজুহাতে দাম স্থির রাখা হচ্ছে।
এদিকে ঈদের পর সবচেয়ে বেশি শূন্যতা দেখা গেছে মাছ ও মাংসের বাজারে। কোরবানির কারণে অনেক পরিবারে পর্যাপ্ত মাংস মজুত থাকায় ব্রয়লার ও গরুর মাংসের দোকানে ক্রেতা প্রায় নেই। ফলে অনেক দোকানেই বিক্রি নেমে এসেছে আশঙ্কাজনকভাবে।
অন্যদিকে মাছের বাজারে সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ইলিশ, রুই, কাতলা, পাঙাশ ও তেলাপিয়ার মতো মাছ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ধারণা, আগামী সপ্তাহের শুরুতে অফিস-আদালত পুরোপুরি চালু হলে এবং মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করলে বাজারে ক্রেতা বাড়বে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম