| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিদেশি রোগীরাই আগুনের মূল শিকার

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৪, ২০২৬ ইং | ০৬:১৪:৪৫:পূর্বাহ্ন  |  ২৪৮ বার পঠিত
চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিদেশি রোগীরাই আগুনের মূল শিকার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হোটেলে বুধবার (৩ জুন) এক ভয়াবহ ও বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বিদেশি নাগরিক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির রাজধানীতে ঘটে যাওয়া অন্যতম ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটি।

দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার একটি বহুতল ভবনে এই আগুন লাগে। ঘনবসতিপূর্ণ এই আবাসিক এলাকাটি মূলত শিক্ষার্থী এবং তরুণ চাকরিজীবীদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়। ভবনটির নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ এবং ওপরের তলাগুলোতে আবাসিক হোটেল ছিল।

দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের অক্লান্ত পরিশ্রমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুনের পর ভবনটি থেকে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছে, অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাতে হচ্ছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২১ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।"

ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আফ্রিকান দেশের নাগরিক রয়েছেন, যাঁরা মূলত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে এসেছিলেন। প্রতি বছরই বিপুল সংখ্যক বিদেশি রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য নয়াদিল্লিতে আসেন এবং হাসপাতালগুলোর কাছাকাছি এলাকার বিভিন্ন হোটেল বা আবাসিক ভবনে অবস্থান করেন। দুর্ভাগ্যবশত, এই বিদেশি অতিথিরাই আজ আগুনের নির্মম শিকার হলেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আগুন ও ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে প্রাণ বাঁচাতে দুই ব্যক্তি ওপরের তলা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ছেন। একই সাথে জানালার পাশে আটকে থাকা অবরুদ্ধ মানুষগুলোর আর্তনাদ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।

উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁরা আটকা পড়া মানুষদের ভবন থেকে বের করে আনতে সাহায্য করেন এবং আহতদের কাঁধে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা এখনো ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে।

রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত?

আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ভারতে অপর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখানোর সংস্কৃতির কারণে এমন ভবন দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা জিতেন্দ্র কুমার সাংবাদিকদের বলেন, ভবনটির নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ চালু ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেই রেস্তোরাঁ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি তাঁর আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। রাজধানীর বুকে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোর অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আবারও বড় ধরণের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪