| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর ও হেনস্তা

মামলা হলেও গ্রেপ্তার হননি পুলিশের দুজন, ধরাছোঁয়ার বাইরে ওসি

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৬, ২০২৬ ইং | ১১:১০:২৬:পূর্বাহ্ন  |  ৮০১ বার পঠিত
মামলা হলেও গ্রেপ্তার হননি পুলিশের দুজন, ধরাছোঁয়ার বাইরে ওসি

স্পোর্টস ডেস্ক: চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা, মারধর ও জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখনো গ্রেপ্তার হননি মামলার দুই আসামি পুলিশ সদস্য। অন্যদিকে, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠা খুলশী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান রয়েছেন আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাকে কেবল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একজন পুলিশ সোর্সকে আটক দেখানো হলেও বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

আইনজীবীরা বলছেন, কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগে মামলা হলে তদন্তকারী সংস্থা সাধারণত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসামিকে গ্রেপ্তার বা আদালতের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনে। কিন্তু নাঈম হাসানকে মারধর, অপহরণের চেষ্টা ও বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা পুলিশ বাহিনীর সদস্য হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করা হচ্ছে। বিভাগীয় তদন্তের কথা বলা হলেও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী এটি কেবল শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়, বরং স্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধের ঘটনা।

ঘটনার শুরু শুক্রবার রাতে। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। রাতের দিকে নগরের লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে তার বহনকারী সিএনজিটি থামিয়ে দেন কয়েকজন ব্যক্তি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সোনা চোরাচালানের একটি চালান আটকের তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল। খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আরিফুর রহমানের নির্দেশে এসআই শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং সোর্স ওই অভিযানে অংশ নেন। বিমানবন্দরে থাকা একটি সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সিএনজি থামানো হয় এবং সেই সিএনজিতেই ছিলেন নাঈম হাসান।

প্রথমে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে নিজের পরিচয় দিলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

নাঈম হাসানের অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে গাড়ি থেকে নামানো হয়। এরপর জোর করে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। এতে আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্ত করলেও পুলিশ সদস্যরা তাকে ছেড়ে দেননি।

অভিযোগে বলা হয়, ঘটনাস্থলে থাকা এসআই শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং এক সোর্স নাঈমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে বিষয়টি ওসি আরিফুর রহমানকে জানানো হলে তার নির্দেশেই নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নাঈমের দাবি, থানায় নেওয়ার পরও তিনি নিজের পরিচয় দেন এবং পরিচয়পত্র প্রদর্শন করেন। এরপরও তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়। একপর্যায়ে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল ও পরিচালক ইসরাফিল খসরুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পর নাঈমকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পরদিন শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। অভিযোগে মারধর, অপহরণের চেষ্টা ও বেআইনিভাবে আটকে রাখার বিষয় উল্লেখ করা হয়।

মামলার পর সিএমপি জানায়, অভিযুক্ত সোর্স সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও দুই পুলিশ সদস্যকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ঘটনার মূল নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযোগ ওঠা খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আরিফুর রহমানের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নাঈম এবং তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ ও পরবর্তী হয়রানির ঘটনায় ওসির সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল।

তবে ওসি আরিফুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, অভিযানের বিষয়ে তাকে আগে জানানো হয়নি। এসআই শফিকুল ইসলাম ও তার টিম নাঈমকে থানায় নিয়ে আসার পর তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ছেড়ে দেন। অনুমতি ছাড়া অভিযানে যাওয়ায় এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী নাঈমের বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা চরম অপেশাদার আচরণ করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) বলেন, মামলা হওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় ও আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খান বলেন, পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কোনোভাবেই ফৌজদারি মামলার বিকল্প হতে পারে না। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকের মতোই ফৌজদারি অভিযোগে মামলা হলে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মারধর ও বেআইনি আটকের অভিযোগ রয়েছে, তাদের একজনকে আটক করা হলেও অন্যরা এখনো বাইরে রয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে একই বাহিনীর সদস্য হওয়ায় কেউ কেউ বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ওসির বিরুদ্ধে তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়; এটি কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪