আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সপ্তাহান্তজুড়ে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নাজুক শান্তি পরিস্থিতি নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ৫৮ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৭২ দশমিক ৫৭ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ৮৮ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে এর আগে গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছানোয় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা সেই স্থিতিশীলতাকে আবারও নড়বড়ে করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএনজির অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এক বিশেষ নোটে জানিয়েছেন, বৈশ্বিক তেলের বাজার এখনো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের প্রধান নজর এখন মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ কত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তার ওপর।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আত্মতুষ্টি দেখা যাচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে বিলম্ব হয় কিংবা হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলের যেকোনো সামরিক উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি