রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিশ্বচ্যাম্পিয়নের তকমা ধরে রেখে এবারও দারুণ ছন্দে এগোচ্ছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই অপরাজিত থেকে নকআউটে জায়গা করে নেয়া লিওনেল স্কালোনির দল শুরু থেকেই বুঝিয়ে দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য একটাই ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে উঠে শিরোপা ধরে রাখার লড়াই।
নকআউট পর্বের সম্ভাব্য পথ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অন্য কয়েকটি শক্তিশালী দলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত স্বস্তির ড্র পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। সেমিফাইনালের আগে কোনো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নেই আর্জেন্টিনার। ফলে ফাইনালে ওঠার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি অপেক্ষা করতে পারে শেষ চারের লড়াইয়ে।
শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রথম প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসেই চমক দেখিয়েছে আফ্রিকার দলটি। কঠিন গ্রুপে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের সঙ্গে লড়াই করে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। তাই অভিষেক বিশ্বকাপেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়া কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই আর্জেন্টিনার। দু’দলের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায়, যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে।
এই বাধা পেরোতে পারলে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে অস্ট্রেলিয়া ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে আসতে পারে সুইজারল্যান্ড, আলজেরিয়া, কলম্বিয়া কিংবা ঘানার মতো দল। কাগজে-কলমে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এই চার দলের কেউই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়নি। ফলে অভিজ্ঞতা, স্কোয়াডের গভীরতা এবং বড় মঞ্চে সাফল্যের বিচারে আর্জেন্টিনাই এগিয়ে থাকবে।
তবে নকআউটের এই তুলনামূলক সহজ পথ সেমিফাইনালে এসে কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে সেখানে রয়েছে দুই ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড। এই দু’দলের যেকোনো একটির বিপক্ষে খেলতে হলে সেটিই হবে আর্জেন্টিনার জন্য ফাইনালের আগের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
বিশেষ করে সেমিফাইনালে যদি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণের মঞ্চ তৈরি হয়, তাহলে সেটিকে অনেকেই আগাম ফাইনাল হিসেবে দেখবেন। দক্ষিণ আমেরিকার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই বরাবরই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণ। শিরোপার দৌড়ে দু’দলই থাকলে সেই ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা যে কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।
সব মিলিয়ে নকআউটের প্রথম দুই ধাপে তুলনামূলক অনুকূল পথ পেলেও শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সেমিফাইনালেই। আর সেই বাধা উতরে যেতে পারলেই টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আরও এক ধাপ বাস্তবের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম