| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাজস্থানে বাসে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৭

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০১, ২০২৬ ইং | ১৩:৫৩:৪১:অপরাহ্ন  |  ৩৯৯ বার পঠিত
রাজস্থানে বাসে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৭

ইন্টারন্যাশনাল  ডেস্ক: ভারতের রাজস্থান রাজ্যের দৌসা জেলার কাছে দিল্লি-মুম্বাই মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয়নবাসে আগুন লেগে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২ জন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যে বাসটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে প্রাণ বাঁচাতে যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। কেউ জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কেউ আগুনের তীব্রতায় বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে যান। শেষ পর্যন্ত কয়েকজনের মৃত্যু হয় আগুনে পুড়ে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বাসটি উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশ থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে যাচ্ছিল। পথে দৌসার কাছে উচ্চগতিতে চলার সময় একটি বড় পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পরপরই বাস ও ট্রাক—উভয় যানবাহনে আগুন ধরে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ নিলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, আগুনে বাস ও ট্রাক প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। দূর থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যাচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে দমকল ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। বাকি দুজনের মৃত্যু হয়েছে মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে। দুর্ঘটনার সময় বাসের ওপরের শয্যায় থাকা কয়েকজন যাত্রী নিচে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নিহতদের অধিকাংশই দুর্ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন।

আহত ২২ জনকে দ্রুত দৌসা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে।

দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাসচালক তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন অথবা বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। এ দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি বাসটির কারিগরি অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ও দমকল সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলে আরও কয়েকজন যাত্রীর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারত। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা পর বাসে আটকে থাকা যাত্রীদের বের করা হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেছেন, বাসটির মালামাল রাখার অংশে বিপুল পরিমাণ সিগারেটের প্যাকেট ছিল। এসব দাহ্য বস্তু থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে তাদের দাবি। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

রাজস্থান প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বড় সড়ক দুর্ঘটনা যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত গতি, চালকদের দীর্ঘ সময় বিরতিহীনভাবে গাড়ি চালানো এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। দৌসার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও গভীর করেছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪