বেনাপোল প্রতিনিধি: অবশেষে বেনাপোলে আসা ভারতীয় সেই নারী রেশমা বিবি ও তার সন্তানকে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলায় পুলিশে সোপর্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।
শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে বর্ডার গার্ড বিজিবি সদস্যরা তাদের পুলিশে সোপর্দ করে বলে নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন।
ওসি আরো জানান, ঐ নারী ও তার শিশু সন্তান রাতে পুলিশের হেফাজতে ছিল। সকালেই তাদের যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন পত্রিকা, টিভি চ্যানেল ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) টনক নড়ে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এবার বৈধ প্রক্রিয়ার নিজ দেশে ফেরার পথ তৈরী হবে অসহায় নারী ও তার সন্তানের।
রেশমা খাতুনের দাবি ছিল তিনি ভারতের বাসিন্দা। তার দুই সন্তান ও স্বামী আছে। তার বাড়ি ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের পাকুর জেলার মহেশপুর থানার খাগড়া গ্রামে। তার স্বামী রাজু শেখ এবং পিতা বুলু শেখ। তারা ভারতে আছে। মুম্বাইয়ের একটি কারখানায় কাজ করার সময় ভারতীয় পুলিশ তাকে এবং আরও কয়েকজনকে আটক করে। তিনি বারবার নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে পরিচয় দিলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। পরে তাকে অন্যদের সঙ্গে বিমানে কলকাতায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে গভীর রাতে চট্টগ্রাম বিভাগের এক সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। বাংলাদেশে তার কোনো আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত না থাকায় তিনি চরম বিপাকে পড়েন। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে সহায়তা করে বাসে তুলে বেনাপোলে পাঠিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শুধু ভারতে দীর্ঘ বছর ধরে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকই নয়, ভারতীয় নাগরিকদেরও অনেককে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে রেশমা ও তার সন্তান এমন অমানবিক ঘটনার শিকার।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব