| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে ‘যৌথ আলাপচারিতা’, গারোপাহাড়ে অভয়ারণ্য গড়ার দাবি

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১৯, ২০২৬ ইং | ০০:৩২:১৬:পূর্বাহ্ন  |  ১৭৯৩ বার পঠিত
হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে ‘যৌথ আলাপচারিতা’, গারোপাহাড়ে অভয়ারণ্য গড়ার দাবি

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারোপাহাড় এলাকায় দিন দিন বেড়ে চলেছে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব। পাহাড় থেকে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসা বন্যহাতির আক্রমণে ফসল, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। অন্যদিকে জানমাল রক্ষার চেষ্টায় মানুষের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে বন্যহাতিও। এমন বাস্তবতায় হাতি-মানুষের চলমান দ্বন্দ্ব নিরসন এবং উভয়ের নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জের আওতাধীন বাতকুচি এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘যৌথ আলাপচারিতা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা।

‘হাতি বাঁচলে, বাঁচবে গারোপাহাড়’ স্লোগানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি), প্রকৃতিপ্রেমী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা, ক্ষয়ক্ষতি এবং সমস্যা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব কমিয়ে সহাবস্থান নিশ্চিত করার বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন এবং গারোপাহাড়ে বন্যহাতির জন্য একটি নিরাপদ অভয়ারণ্য গড়ে তোলার দাবি জানান।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এবং নাগরিক প্ল্যাটফর্ম জনউদ্যোগ শেরপুর। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি), প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন এবং টুগেদার ফর এডুকেশন, অ্যাথলেটিক্স অ্যান্ড মিশন (টিম)।

জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কবি জ্যোতি পোদ্দার, সমন্বয়ক সাংবাদিক হাকিম বাবুল, শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির সংগঠক দেবদাস চন্দ বাবু, স্থানীয় ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্য মো. আসমত আলী এবং টিমের সদস্য ইলিয়াস খানসহ অন্যরা।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, পাহাড়ে হাতির জন্য পর্যাপ্ত বাস্তুসংস্থান ও খাদ্য নিশ্চিত করতে হাতির উপযোগী বৃক্ষরোপণ করতে হবে। পাশাপাশি পাহাড়ে পানি সংরক্ষণের জন্য জলাধার বা পানির আধার তৈরি করতে হবে, যাতে খাদ্য ও পানির সংকটে হাতিগুলো লোকালয়ে নেমে না আসে।

তারা আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় ধানসহ হাতির প্রিয় ফসলের চাষ কমিয়ে মরিচসহ হাতির অপছন্দের ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে মৌমাছি চাষের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করলে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে এবং হাতি-মানুষের সংঘাতও কমবে।

সভায় আরও বলা হয়, হাতির চলাচলের প্রাকৃতিক করিডোর বা পথ কোনোভাবেই দখল বা বন্ধ করা যাবে না। এসব পথে ছোট ছোট পুকুর বা পানি ধারণের ব্যবস্থা করতে হবে। বন্যহাতিকে উত্যক্ত করা, বিদ্যুতের ফাঁদ পেতে হত্যা করা কিংবা অন্য কোনোভাবে ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহলেই হাতি ও মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা ও ভিউ ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বন্যহাতিকে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্যক্ত করে ভিডিও ধারণ করছে। এতে হাতিগুলো আরও উত্তেজিত হয়ে লোকালয়ে হামলার ঝুঁকি বাড়ছে এবং হাতি-মানুষের দ্বন্দ্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের ভিউ ব্যবসায়ী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুর জেলার পাহাড়ি জনপদে গত ১৬ বছরে (২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত) হাতি-মানুষের দ্বন্দ্বে ৪৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাতির আক্রমণে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে একই সময়ে ৩৪টি বন্যহাতিরও মৃত্যু হয়েছে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, হাতি ও মানুষের সংঘাত কমাতে শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে হাতির আবাসস্থল সংরক্ষণ, খাদ্যের ব্যবস্থা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হতে পারে টেকসই সমাধান।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪