| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইসরায়েলি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করল বেলজিয়াম

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১৮, ২০২৬ ইং | ২৩:৩৫:৩৭:অপরাহ্ন  |  ১৫৩২ বার পঠিত
ইসরায়েলি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করল বেলজিয়াম

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে বেলজিয়ামের ফেডারেল সরকার।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এখনো এ বিষয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারলেও, ইউরোপের যে কয়েকটি দেশ এককভাবে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেই তালিকায় বেলজিয়ামও যুক্ত হলো।

গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগে সরকারের শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছে বেলজিয়ান বার্তা সংস্থা বেলগা।

গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ এবং বিপুল প্রাণহানির পর গত বছর দেওয়া সরকারের একটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

এর আগে চলতি সপ্তাহে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো পুরো ইইউজুড়ে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় কমিশন কার্যকর কোনো পরিকল্পনা না দিয়ে শুধু মন্ত্রীদের ‘চিবানোর জন্য একটি হাড়’ ছুড়ে দিয়েছে।

বেলজিয়ামের এই নিষেধাজ্ঞা একদিকে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, অন্যদিকে ইইউ নেতৃত্বের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা।

চলতি বছর গ্লোবাল ইকো লিটিগেশন সেন্টারের এক তদন্তে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়।

তদন্তে ইউরোপে পাঠানো ইসরায়েলের হাজারো কৃষিপণ্যের ৩০ হাজারের বেশি রপ্তানি নথি বিশ্লেষণ করা হয়।

তাতে দেখা যায়, প্রায় প্রতি ছয়টি চালানের একটিতে অধিকৃত পশ্চিম তীর বা গোলান মালভূমির বসতিতে উৎপাদিত পণ্য ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে এ হার প্রায় প্রতি পাঁচটি চালানের একটিতে পৌঁছায়।

তদন্তকারীরা আরও জানান, রপ্তানিকারকরা পণ্যের প্রকৃত উৎস গোপন করতে নিয়মিত বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে বসতিতে উৎপাদিত পণ্যকে ‘ইসরায়েলে উৎপাদিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কখনও সেগুলোকে ইসরায়েলের অন্য এলাকার পণ্যের সঙ্গে মিশিয়ে বা উৎপাদনস্থলের সঙ্গে সম্পর্কহীন ঠিকানা ব্যবহার করে পাঠানো হয়েছে।

ইউরোপের অন্য দেশগুলোর পদক্ষেপ

ইউরোপীয় ইউনিয়নই ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। গত বছর ইসরায়েলের মোট রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশই ইইউ কিনেছে। পণ্য বাণিজ্যে উভয় পক্ষের লেনদেনের মূল্য ছিল প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ইউরো। ইইউর যৌথ সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে এককভাবে পদক্ষেপ নেওয়া দেশগুলোর তালিকায় এখন বেলজিয়ামও যুক্ত হলো।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্পেন আইন করে এ ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে। মে মাসে একই সিদ্ধান্ত নেয় নেদারল্যান্ডস। চলতি বছরের শুরুতে স্লোভেনিয়াও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তবে পরে দেশটিতে তুলনামূলক ইসরায়েলপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

ইইউর ২৭ সদস্য দেশের ভিন্নমতের কারণে এ বিষয়ে এখনো জোটগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। গত ১৫ জুলাই আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্টও নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই একই পথে হাঁটল বেলজিয়াম।

জাতীয় পর্যায়ে এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে চলতি মাসের শুরুতে ইউরোপীয় কমিশন সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপের চেষ্টা করেছিল।

খবরে বলা হয়, কমিশন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব পাঠায়—বসতিপণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু অথবা এসব পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এনরিকো লেত্তা এবং জার্মানির সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর জিগমার গ্যাব্রিয়েলসহ ইউরোপের পাঁচজন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা যৌথভাবে ইইউজুড়ে একক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।

তাদের মতে, বেলজিয়ামের মতো একক রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সীমিত। কারণ, কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রে শুল্ক ছাড় পাওয়ার পর পণ্য সহজেই ইইউর অন্য দেশগুলোতে প্রবেশ করতে পারে।

তাদের ভাষ্য, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো নতুন অবরোধ নয়; বরং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে আসা খনিজ কিংবা জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে ইইউ যে নীতি আগে থেকেই অনুসরণ করে, তার সঙ্গেই এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এদিকে গাজায় চলমান যুদ্ধের জেরে স্পেন, ইতালি ও জার্মানিসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানির ওপরও বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪