| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পুষ্টিচাল বিতরণের পরিধি বাড়িয়ে ৩০০ উপজেলায় নিচ্ছে সরকার

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৫, ২০২৬ ইং | ২২:৪৫:৩৩:অপরাহ্ন  |  ২৫০ বার পঠিত
পুষ্টিচাল বিতরণের পরিধি বাড়িয়ে ৩০০ উপজেলায় নিচ্ছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার: খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় পুষ্টিচাল বিতরণ কার্যক্রমে উপজেলার সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০০-তে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ২৫৬টি উপজেলায় উপকারভোগীদের মাঝে পুষ্টিচাল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এই কার্যক্রমের পরিধি বাড়িয়ে ৩০০ উপজেলায় নিয়ে যেতে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর প্রস্তাবে সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৬টি মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন বি-৯/ফলিক অ্যাসিড, আয়রন ও জিঙ্ক) সমৃদ্ধ পুষ্টিচাল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উপজেলার সংখ্যা ৪৪টি বৃদ্ধি করে পুষ্টিচাল বিতরণের পরিধি বাড়ানো হবে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে পুষ্টিচালের কার্নেল (দানা) ক্রয় বাবদ ১২৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা, পুষ্টিচাল মিশ্রণ বাবদ ১৩৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং পরিবহন বাবদ ১২৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকাসহ মোট ৩৯০ কোটি ২৪ লাখ টাকার আর্থিক সংশ্লেষ রয়েছে। ফলে এ খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আনুমানিক ১০৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে সরকারের।

জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিটি 'সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি'র কার্যপরিধিভুক্ত। এ কমিটি উপকারভোগীর সংখ্যা, ভাতার হার এবং বরাদ্দের পরিমাণ নির্ধারণ করে থাকে। বর্তমানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিজিডব্লিউবি কর্মসূচি এবং খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে পুষ্টিচাল বিতরণ করা হচ্ছে। পুষ্টিচাল বিতরণের সুবিধার্থে প্রতি অর্থবছরই কার্নেল ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পুষ্টিচাল তৈরির জন্য ৪ হাজার ৫০০ টন কার্নেল ক্রয় এবং কার্নেল প্রিমিক্স সংগ্রহ, মিলিং কমিশন, পরিবহন, খালাস ব্যয়সহ বিবিধ খাতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও পুষ্টিচালের চাহিদার প্রাক্কলন অপরিবর্তিত রেখে ৪ হাজার ৫০০ টন কার্নেলের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বাজেটে সংস্থান করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক পর্যালোচনায় বলা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়িয়া উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডাব্লিউএফপি) অর্থায়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে পুষ্টিচাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় সরকারি অর্থায়নে ধাপে ধাপে ২৫৬টি উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে পুষ্টিচাল বিতরণের অনুমোদন দেয়। এক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন গ্রহণ করা হয়নি।

গত ৭ মে অনুষ্ঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৩তম সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে পুষ্টিচাল বিতরণের বিষয়ে কোনো সুপারিশ করা হয়নি। আবার গত ১০ জুন অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে পুষ্টিচাল বিতরণের উপজেলার সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিজিডব্লিউবি কর্মসূচি এবং খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বাস্তবায়ন নীতিমালায় পুষ্টিচাল বিতরণ বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই।

এমন এক প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে পুষ্টিচাল বিতরণ কার্যক্রমের আওতা ৩০০ উপজেলায় উন্নীত করতে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী অনুরোধ জানান।

সাধারণত 'সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি'র সভা দীর্ঘ বিরতিতে অনুষ্ঠিত হয়। তাই সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুবিধার্থে এ পর্যায়ে শর্তসাপেক্ষে প্রস্তাবটি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে অর্থমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত করা সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে পুষ্টিচাল বিতরণে নিম্নোক্ত শর্তে অর্থ বিভাগের সম্মতি জ্ঞাপন করা হয়েছে—

(ক) খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় পুষ্টিচাল বিতরণ কার্যক্রমের বিষয়ে 'সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি'র পরবর্তী সভায় ভূতাপেক্ষ অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

(খ) পুষ্টিচাল বিতরণ কার্যক্রমে উপজেলার সংখ্যা বৃদ্ধিজনিত কারণে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ বাবদ ১০৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সংস্থান করতে হবে।

(গ) পুষ্টিসংক্রান্ত নীতি/বিষয় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

(ঘ) পুষ্টিচাল বিতরণের ফলে উপকারভোগীদের ওপর স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং তাদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত উপজেলার উপকারভোগীদের পুষ্টিসংক্রান্ত বেইজলাইন তথ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সময় পর পুনরায় তাদের পুষ্টিমানের সঙ্গে পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং সেই পর্যবেক্ষণ/গবেষণা প্রতিবেদন অর্থ বিভাগকে অবহিত করতে হবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪