| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সহসাই কাটছে না গ্যাস সংকট

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৯, ২০২৬ ইং | ১০:০৫:০২:পূর্বাহ্ন  |  ১১৫৬৯ বার পঠিত
সহসাই কাটছে না গ্যাস সংকট

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি (এলএনজি) টার্মিনালে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। টার্মিনালটির মেরামতকাজ শুরু হলেও চলতি মাসের মধ্যে এটি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে দেশের গ্যাস সংকট সহসাই কাটছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে আমদানিকৃত এলএনজি পুনঃবাষ্পীভবন (রিগ্যাসিফিকেশন) করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট এফএসআরইউ) রয়েছে। দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত সরবরাহ সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণে একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, টার্মিনালের বয়লার থেকে বের হওয়া সিগন্যালবাহী বৈদ্যুতিক তারে শর্টসার্কিটের ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে বিদেশি প্রকৌশলীরা মেরামতকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে চলতি সপ্তাহেও টার্মিনালটি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার সম্ভাবনা নেই।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকেই আসে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট। ফলে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। এতে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি বেড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। মেরামতকাজ চলমান থাকলেও চলতি মাসের মধ্যে এটি সচল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

আবাসিকে চরম ভোগান্তি

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চুলায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা গৃহিণী পারভীন বলেন, সারাদিন চুলায় গ্যাস থাকে না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। আর গভীর রাতে গ্যাস এলে তখনই রান্না করতে হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে একটি রান্না শেষ করতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে। এতে পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

গ্যাসের বিকল্প হিসেবে অনেকেই এখন এলপিজি সিলিন্ডার ও ইনডাকশন চুলা ব্যবহার করছেন। তবে এতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। একদিকে আবাসিক গ্যাস বিল, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানির খরচ দুই দিকেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, তিতাসের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট। এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় বর্তমানে তারা মাত্র ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছে। টার্মিনাল সচল না হওয়া পর্যন্ত এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়।

সিএনজি স্টেশনেও দীর্ঘ লাইন

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। অধিকাংশ স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।

মগবাজারের আনুদীপ সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নিতে আসা চালক মো. আল আমিন বলেন, যে স্টেশনেই যাচ্ছি, সেখানেই গ্যাস সংকট। কোথাও গ্যাস থাকলেও চাপ এত কম যে প্রয়োজনমতো নেওয়া যাচ্ছে না।

আরেক চালক মো. কাউছার বলেন, প্রতিদিনের ট্রিপ চালানোর মতো পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ট্রিপ কমাতে হচ্ছে, আর এতে আয়ও কমে যাচ্ছে।

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়ার তাগিদ

সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেশের গ্যাস সংকটকে আরও প্রকট করছে। এ সংকট থেকে দীর্ঘমেয়াদে উত্তরণের জন্য দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলনে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জোর দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও সেই উদ্যোগে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সরকার নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে, তবে এ পদক্ষেপ আরও আগে নেওয়া হলে বর্তমান সংকট অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব হতো।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪