| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গণঅভ্যুত্থানের দিনলিপি: ৩ আগস্ট ২০২৪ -এক দফার দাবিতে উত্তাল বাংলাদেশ

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৩, ২০২৬ ইং | ১৫:০৮:৩১:অপরাহ্ন  |  ৬১২ বার পঠিত
গণঅভ্যুত্থানের দিনলিপি: ৩ আগস্ট ২০২৪ -এক দফার দাবিতে উত্তাল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক: ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আসে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এক দফা দাবি ঘোষণা করে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পদত্যাগ।

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এদিন সকাল থেকেই রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন হাজারো মানুষ। বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনেকে পরিবারসহ জাতীয় পতাকা ও নিহত-নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে সমাবেশে অংশ নেন।

শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, জগন্নাথ হল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা ও শিববাড়ী মোড়সহ আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। সমাবেশস্থলে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। আন্দোলনকারীরা ‘দফা এক, দাবি এক শেখ হাসিনার পদত্যাগ’সহ নানা স্লোগান দেন।

বিকেল ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া সমাবেশে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হন। শিক্ষক, আইনজীবী, পোশাকশ্রমিক, অভিভাবক, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।

সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন, তারা জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক দফা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও এদিন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মিরপুর-১০ গোলচত্বর, উত্তরা বিএনএস সেন্টার এবং সায়েন্স ল্যাব এলাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অবস্থান নেন। বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে তারা হতাহতের বিচার এবং জবাবদিহির দাবি জানান।

এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। গাজীপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, বগুড়া, জামালপুর ও ফরিদপুরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় হতাহতের খবর আসে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

এর আগে সকালে গণভবনে প্রফেশনালস কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তিনি সংঘাত চান না এবং আন্দোলনে নিহতদের মৃত্যুর বিচার করা হবে। আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি।

তবে আন্দোলনের সংগঠকরা এই আহ্বানকে গ্রহণ করেননি। তাদের বক্তব্য ছিল, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সংলাপের সময় পেরিয়ে গেছে।

এদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি জোরদার করে। ঘোষিত কর্মসূচিতে কর ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধ বন্ধ রাখা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালত, কলকারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং সরকারি কর্মসূচি বর্জনের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো, অফশোর লেনদেন ও পরিবহন কার্যক্রম স্থগিত রাখার কথাও বলা হয়। তবে হাসপাতাল, জরুরি সেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহকে কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হয়।

আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের সঙ্গে সর্বাত্মক অসহযোগিতা গড়ে তোলা এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মৌলিক সেবা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জীবন, সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, সেনাবাহিনী জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে আরও রক্তপাত এড়াতে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪