রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শিগগিরই ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা সবাই এটা নিয়ে কাজ করছি। অনেকগুলো বিষয় নিয়ে কাজ করছি। আমরা আশাবাদী, অচিরেই আমরা আসামিদের ধরে ফেলব।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, ঢাকা মহানগরে সংঘটিত অধিকাংশ আলোচিত ঘটনা ডিবি সফলভাবে উদঘাটন করেছে এবং এসব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোয়া কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটিও দ্রুত উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা আশাবাদী, সোয়া কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাও আমরা উদঘাটন করব। যারা অপরাধী, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।
এর আগে গত ৯ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় র্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়ার সময় ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই তাসীন আক্তার হকের বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন ব্যক্তি টাকা বহনকারী গাড়িটির গতিরোধ করেন। একপর্যায়ে গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সেটি থামানোর পর ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান তারা।
এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারে ছিনতাই হওয়া টাকা ডিএল পেট্রোল পাম্পের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএল প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত তাসীন আক্তার হক। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বোন, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের ছোট ছেলে।
পেট্রোল পাম্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিএল পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিনের বিক্রির টাকা সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়া হতো।
শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুই দিনের বিক্রির টাকা পরবর্তী কর্মদিবস রোববার একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। ফলে রোববার তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণ টাকা ব্যাংকে নেওয়া হয়। আর এই সুযোগেই ছিনতাইকারীরা বিপুল অঙ্কের টাকা বহনকারী গাড়িটিকে টার্গেট করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম