রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে রেজিস্ট্রেশন পেতে হলে এসব রিকশার ব্যাটারি সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে রিচার্জ করতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ করা হলে সংশ্লিষ্ট রিকশাকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মীর শাহে আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে। তবে রেজিস্ট্রেশনের অন্যতম শর্ত হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি রাখা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুতের বাইরে অন্য কোনো উৎসের বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি রিচার্জ করা হলে সেই রিকশাকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না।
শুধু তাই নয়, সৌরবিদ্যুতের পরিবর্তে অন্য কোনো উৎসের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে জরিমানার বিধানও রাখা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এখন থেকে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দেবে না। এসব রিকশার নিবন্ধন দেবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আইন পাস হয়েছে। সেই আইনের আলোকে বর্তমানে বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে। বিধিমালায় ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন ফি, নবায়ন ফি এবং অন্যান্য শর্ত নির্ধারণ করা হবে।
এর মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে এনে নিবন্ধন ও পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। ব্যাটারিচালিত রিকশার ফিটনেসের বিষয়েও নতুন নিয়ম চালুর কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রিকশার নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অথবা জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখা থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে।
ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়ার পর সেটিতে ট্রাফিক পুলিশের প্রতিস্বাক্ষর নিতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ওই সার্টিফিকেট সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় জমা দিতে হবে।
এভাবে রিকশার কারিগরি সক্ষমতা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর নিবন্ধন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। ঢাকা শহরের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিধিমালা প্রণয়নের প্রাথমিক বৈঠক ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ওই বৈঠকে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ট্রাফিক পুলিশের প্রতিনিধি এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
বিধিমালায় রিকশার নিবন্ধন, চলাচল, ফিটনেস এবং অন্যান্য বিষয় নির্ধারণের পাশাপাশি রাজধানীতে এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে জোনভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
নতুন সিদ্ধান্তগুলো কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, বিধিমালা প্রণয়নের পর তা অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হলেই কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ভেটিং নিয়ে বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গেই এর কার্যকারিতা শুরু হবে।
অর্থাৎ বিধিমালা চূড়ান্ত ও অনুমোদিত হওয়ার পরই ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন, ফিটনেস এবং সৌরবিদ্যুতে ব্যাটারি চার্জের শর্তসহ অন্যান্য বিধান বাস্তবায়নের পথ খুলবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। চলতি অর্থবছরের বাজেটে পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ এই পাঁচ ধরনের নির্বাচনের জন্য বাজেটে অর্থ রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। এসব নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা কম-বেশি প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক প্রস্তুতিই নয়, আর্থিক বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং অর্থ বিভাগ একসঙ্গে বসে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করবে।
মীর শাহে আলম বলেন, পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা দুই বিষয় সমন্বয় করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম