| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কালিহাতীতে একাধিক মাদক মামলার আসামি প্রকাশ্যে, পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ৩১, ২০২৬ ইং | ২০:১২:৩১:অপরাহ্ন  |  ২৫৪ বার পঠিত
কালিহাতীতে একাধিক মাদক মামলার আসামি প্রকাশ্যে, পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া এলাকায় একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারের তথ্য থাকা মো. মামুনুর রশিদ ওরফে মামুন ও তাঁর ছেলে সিহাবের প্রকাশ্যে চলাফেরা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশের নথিতে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারের তথ্য থাকার পরও তিনি কীভাবে এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন, তা নিয়েই মূলত প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি পাওয়া পুলিশের পিসিপিআর (Police Criminal Record/Police Information) নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাতুটিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলাই মাদকসংক্রান্ত।

নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় মামুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কালিহাতী থানার একটি মাদক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে। ২০১৮ সালের ২৭ এপ্রিল কুড়িগ্রামের একটি মাদক মামলায় এবং ২০২১ সালের ২৬ জুন কালিহাতী থানার আরেকটি মাদক মামলায় তাঁর গ্রেপ্তারের তথ্য নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর মাদকসংক্রান্ত আরও একটি মামলায় তাঁর গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ পুলিশের নথিতে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারের তথ্য থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।

তবে শুধু গ্রেপ্তারের তথ্য থাকলেই কোনো ব্যক্তি বর্তমানে দোষী সাব্যস্ত এমন দাবি করার সুযোগ নেই। এসব মামলার কোনটি বিচারাধীন, কোনটি নিষ্পত্তি হয়েছে, কোনো মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন কি না কিংবা কোনো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি থেকে পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মামুনুর রশিদ ও তাঁর ছেলে সিহাব দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে তাঁদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও করছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে মামুনুর রশিদ ও সিহাবের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি কারও বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্য পুলিশের নথিতে থাকে, তাহলে তাঁর বর্তমান আইনগত অবস্থান সম্পর্কে নিয়মিতভাবে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে কি না। কোনো মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে সেটি কার্যকর হচ্ছে কি না এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সম্প্রতি ভূঞাপুর এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি ড্রাম ট্রাক নিয়েও মামুনুর রশিদের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, এসআই আরিফ রব্বানী জব্দ তালিকা ও সাধারণ ডায়েরির মাধ্যমে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের আলামত আদালতের আদেশ ছাড়া কোনো ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের আইনগত সুযোগ নেই।

একই সঙ্গে তাঁর ছেলে সিহাবের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে যেসব অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো তথ্য পেয়েছে কি না সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকী বলেন, মামলাগুলো বিচারাধীন আছে। তবে থানায় কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই। তিনি বলেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া তো তাকে ধরতে পারছি না। এরকম কিছু হলে আসামি প্রকাশ্যে ঘোরার কোনো সুযোগ দেব না।

ওসি আরও বলেন, এ বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকার যদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে আমরা কী করতে পারি।

অন্যদিকে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আদিবুল ইসলাম (পিপিএম-সেবা) জানান, এস এম মামুন অর রশীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে মামলাগুলো বিচারাধীন এবং বর্তমানে থানায় কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই—এমন বক্তব্যের পরও স্থানীয়দের প্রশ্ন, একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারের তথ্য থাকা ব্যক্তির আইনগত অবস্থান নিয়ে নিয়মিত নজরদারি ও যাচাই কতটা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও স্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন। বিশেষ করে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা, আদালতের কোনো নির্দেশনা রয়েছে কি না এবং তাঁর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো আইনগত পদক্ষেপ প্রয়োজন কি না এসব বিষয় পরিষ্কার হলে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নেরও উত্তর মিলবে।

এ বিষয়ে মামুনুর রশিদ ও তাঁর ছেলে সিহাবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪