ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার নামে চলছে অনিয়মের উৎসব। খাবার, ওষুধ, ব্যবহার- সবকিছুতেই নিয়মনীতি উপেক্ষার চিত্র মিলেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরেজমিন অভিযানে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে দুদকের টানা দুই ঘণ্টার অভিযানে এসব অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে।
এদিন বেলা ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালায় ঠাকুরগাঁও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের ছয় সদস্যের একটি টিম। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. আজমির শরীফ মারজী।
অভিযান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী রোগীদের প্রতিদিন ১০৯ গ্রাম বয়লার মুরগি দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২২ গ্রাম। ভাত রান্নায় ব্যবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের মোটা চাল, আর তেল ব্যবহার করা হচ্ছে খোলা ও অস্বাস্থ্যকর।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে থাকা নাপা ও ফেক্সো ওষুধের মজুত থাকলেও রোগীদের বাইরে থেকে কিনে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। দায়িত্বরতরা অভিযোগ অস্বীকার করলেও রোগীরা ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এমনকি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে বেশি দামে।
অভিযানে নার্সদের বিরুদ্ধেও উঠে আসে গুরুতর অভিযোগ। রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, কথা বলার অশালীন ভঙ্গি এবং অবহেলার অভিযোগ তদন্তকারীদের নজরে আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তিন নার্সের বেতন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
দুদকের কর্মকর্তারা হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তারা জানান, টয়লেট, বেডশিট, করিডোর কোথাও নেই সঠিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। রোগীরা অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে বারবার হেনস্তা হতে হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে গেলে তারা উল্টো অপমান করে তাড়িয়ে দেয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমুজ্জামান বলেন, দুদক যেসব অনিয়ম পেয়েছে, আমরা সেগুলো গুরুত্বসহকারে দেখছি। যারাই জড়িত থাকুক, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ