| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দেড়শো বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন দেওগ্রামের লাঠিয়ালরা

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ইং | ১৯:৫৯:০৪:অপরাহ্ন  |  ১৮৪ বার পঠিত
দেড়শো বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন দেওগ্রামের লাঠিয়ালরা

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার পশ্চিম দেওগ্রামে এখনো টিকে আছে দেড়শ বছরের বেশি সময়ের ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শেখা এই খেলা বংশপরম্পরায় ধরে রেখেছেন স্থানীয় লাঠিয়ালরা। প্রতিবছর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর তিন দিন পর শনিবার আয়োজিত হয় এ উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী মেলা। এবার ২৪ অক্টোবর বসেছে এই মেলা।

ঢোলের বাজনা আর কাঁসার ঘণ্টার তালে তালে লাঠিয়ালদের লাঠির কসরত, আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে মুখর হয়ে ওঠে মেলার মাঠ। প্রতিপক্ষের আঘাত কৌশলে প্রতিহত করে পাল্টা আক্রমণের দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ। আশপাশের গ্রাম ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে হাজারো দর্শনার্থী আসেন এই খেলা দেখতে।

লাঠিখেলাকে কেন্দ্র করে মেলাটি পরিণত হয় গ্রামীণ সংস্কৃতি ও পারিবারিক মিলনমেলায়। জামাই-মেয়ে ও আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত দেওয়া, বাড়িতে বাড়িতে বিশেষ খাবারের আয়োজনসহ নানা উৎসবমুখর পরিবেশ ছড়িয়ে পড়ে গ্রামজুড়ে। মেলায় বসে মিষ্টি, চিনির শাহী জিলাপি, বাঁশ-কাঠ, লোহা ও মাটির তৈরি সামগ্রীর দোকান। শিশুদের খেলনা ও প্রসাধনীর দোকানও রয়েছে। তবে মেলার প্রধান আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা।

লাঠিয়াল সহিদুল ও প্রবীণ লাঠিয়াল স্বাধীন হোসেন জানান, বংশপরম্পরায় তাঁরা এ খেলার চর্চা করে আসছেন। বাবা-দাদার কাছ থেকেই লাঠিখেলা শিখেছেন তাঁরা। এখনো কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই দর্শকদের আনন্দ দিতে খেলায় অংশ নেন। তবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ খেলার প্রতি আগ্রহ কমে আসায় ঐতিহ্যটি একসময় হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, সময়ের পরিবর্তনে গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পশ্চিম দেওগ্রামের লাঠিয়ালরা নিজেদের আগ্রহ ও ভালোবাসা দিয়ে পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতি ধরে রেখেছেন। এই ঐতিহ্য রক্ষায় আগামী প্রজন্মকে লাঠিখেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

আয়োজকদের মতে, পশ্চিম দেওগ্রামের এই মেলা কেবল বিনোদনের আয়োজন নয়; এটি গ্রামবাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক। দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে লাঠিখেলার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা গেলে ভবিষ্যতেও এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪