| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মাইক্রোসফটের পাকিস্তান ছাড়ার সিদ্ধান্ত, অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০৪, ২০২৫ ইং | ১৭:৩৫:১৩:অপরাহ্ন  |  ১৫২৩৫৯০ বার পঠিত
মাইক্রোসফটের পাকিস্তান ছাড়ার সিদ্ধান্ত, অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত
ছবির ক্যাপশন: মাইক্রোসফটের পাকিস্তান ছাড়ার সিদ্ধান্ত: সেদেশের অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি কোম্পানি মাইক্রোসফট সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, তারা পাকিস্তানে তাদের সীমিত কার্যক্রম বন্ধ করছে। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামাবাদ অফিস বন্ধ করে দেয়, যা গত ২৫ বছর ধরে চালু ছিল।

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক পুনর্গঠন এবং ক্লাউডভিত্তিক, পার্টনার-নির্ভর মডেলে রূপান্তরের কৌশলের অংশ।বিশ্লেষক এবং প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল একে পাকিস্তানের জন্য এক "দুশ্চিন্তার ইঙ্গিত" বলে আখ্যা দিয়েছেন, বিশেষ করে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায়।এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন মাইক্রোসফট বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯,১০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে, যা তাদের মোট কর্মীর প্রায় ৪ শতাংশ। 

এটি ২০২৩ সালের পর কোম্পানির সবচেয়ে বড় ছাঁটাই।পাকিস্তানে মাইক্রোসফটের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা কান্ট্রি ম্যানেজার জাওয়াদ রহমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা প্রযুক্তি জায়ান্টদের সাথে একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্যনির্ধারিত (KPI-ভিত্তিক) পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় বসে। লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “এই প্রস্থান আমাদের বর্তমান ব্যবসায়িক পরিবেশেরই প্রতিফলন। এমনকি মাইক্রোসফটের মতো বিশ্বনেতৃস্থানীয় কোম্পানিও এখানে টিকে থাকতে পারছে না।

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভিও এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্টে মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লেখেন, “এটি আমাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এক অশনি সংকেত।”আরিফ আলভি দাবি করেন, এক সময় মাইক্রোসফট পাকিস্তানে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথা ভাবছিল, কিন্তু দেশটির রাজনৈতিক ও নীতিগত অস্থিরতার কারণে ২০২২ সালের শেষ নাগাদ তারা ভিয়েতনামকে বেছে নেয়।

“সেই সুযোগটি আমাদের হাতছাড়া হয়েছে,” তিনি লিখেছেন।জাওয়াদ রহমান ব্যাখ্যা করেন, পাকিস্তানে মাইক্রোসফট কখনও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক শাখা পরিচালনা করেনি। প্রতিষ্ঠানটির মূল ফোকাস ছিল এন্টারপ্রাইজ, শিক্ষা, এবং সরকারি খাতের ক্লায়েন্টদের সাথে সংযোগ রক্ষা করা। সেই উদ্দেশ্যে এখানে লিয়াজোঁ অফিস পরিচালিত হতো।তিনি আরও জানান, বিগত কয়েক বছরে এসব কার্যক্রম অনেকাংশেই স্থানীয় পার্টনারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সফটওয়্যার লাইসেন্সিং ও বাণিজ্যিক চুক্তি ইউরোপের আয়ারল্যান্ড-ভিত্তিক হাব থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাইক্রোসফটের এই প্রস্থান শুধুমাত্র একটি কোম্পানির সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি পাকিস্তানের বৃহত্তর বিনিয়োগ পরিবেশের সংকটের প্রতিচ্ছবি। যেখানে একদিকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো উদীয়মান বাজারগুলিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে পাকিস্তান পিছিয়ে পড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তি খাতের প্রতি সরকারের দুর্বল নীতিগত প্রতিশ্রুতির কারণে।এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে পাকিস্তানকে একটি দীর্ঘমেয়াদী, বাস্তবভিত্তিক এবং প্রযুক্তি-বান্ধব পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মাইক্রোসফটের এই পদক্ষেপ যেন ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত না দেয়, সে জন্য এখনই সাহসী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।


রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪