আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি :
বুধবার (৭ মে) ভোররাতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) হামলা চালায়। ভারতের সেনাবাহিনীর দাবি, তারা পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসী ঘাটিতে হামলা চালিয়ে ৮০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসবাদীকে হত্যা করেছে। এই অভিযানটিকে তারা ‘অপারেশন সিন্দুর’ বলে অভিহিত করছে। যা ২২শে এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরো দাবি করা হয়,অপারেশন সিন্দুরের প্রধান লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ও পিওকে-তে অবস্থিত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মোহাম্মদ (JeM), লস্কর-ই-তৈয়বা (LeT) এবং হিজবুল মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত নয়টি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করা। এই হামলা ছিল পাকিস্তান থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর একটি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ।
অপারেশনটি রাত ১টা ৪৪ মিনিটে শুরু হয় এবং ২৩ মিনিট স্থায়ী হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনীর যৌথ সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল মুরিদকে (লস্কর-ই-তৈয়বার সদর দফতর), বাহাওয়ালপুর (জৈশ-ই-মোহাম্মদের শক্ত ঘাঁটি), মুজাফফরাবাদ, কোটলি, সিয়ালকোট, চাক আমরু, গুলপুর, ভিম্বার গালি এবং তেহরা কালান সহ মোট নয়টি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়।
ভারতীয় সরকার সূত্রে জানা গেছে, কোনো পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি, তবে সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও লঞ্চ প্যাড ধ্বংস করা হয়েছে।
হামলার পর, ভারতীয় সেনাবাহিনী এক্স-এ একটি ভিডিও পোস্ট করে। তার ক্যাপশনে ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হল ("Justice is served")’ লেখা হয়।
তবে পাকিস্তানের আইএসপিআর দাবি করছে, ভারতের এই হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে এবং এটি "প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা" হিসেবে অভিহিত করেছে। পাকিস্তান আরও দাবি করেছে যে, তারা পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
এই হামলার পর, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দুই দেশের প্রতি শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ উভয় পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসবি