| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পাকিস্তান-ভারতের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত অন্তত ৯০, যুদ্ধের দামামা

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৭, ২০২৫ ইং | ০০:০০:০০:পূর্বাহ্ন  |  ১৭৮২৫৪৭ বার পঠিত
পাকিস্তান-ভারতের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত অন্তত ৯০, যুদ্ধের দামামা
ছবির ক্যাপশন: পাকিস্তানে ভারতের হামলা, যুদ্ধের দামামা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বুধবার (৭ মে) ভোররাতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) নয়টি স্থানে হামলা চালানোর কথা বলেছে ভারত। আজকাল ডট ইন পত্রিকার প্রতিবেদনে ভারতের দাবি অনুযায়ী এই হামলায় পাকিস্তানের ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ছয়টি স্থানে হামলা হওয়ার কথা স্বীকার করে পাকিস্তান দাবি করছে, এই হামলায় তাদের অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন এবং পাক সেনার পাল্টা আক্রমণে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ও একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।


পাকিস্তানে বিমান হামলার বিষয়ে ইতোমধ্যে বিস্তারিত জানিয়েছে ভারত। বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার ভ্যোমিকা সিং বলেন, ‘তাদের অভিযানের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটি’। ভারতীয় বাহিনী তা ‘সফলভাবে ধ্বংস করতে’ পেরেছে।’


ব্রিফিংয়ে উঠে আসা মূল বিষয়গুলো হল– ভারত মোট ৯টি স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে, এর মধ্যে কিছু পাকিস্তানে, আর কিছু পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে। স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ২৫ মিনিটে এই অভিযান সম্পন্ন হয়। হামলার লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করা হয়েছিল বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যর ভিত্তিতে। অভিযানে সবকটি লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি ভারতের। ব্রিফিংয়ে তারা কিছু ছবি দেখিয়ে ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলোকে ‘সন্ত্রাসীদের ক্যাম্প’ হিসেবে বর্ণনা করেন।


রাতের আধারে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামের ভারতের হামলাকে কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়ে এর পাল্টা জবাব দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বুধবার তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বিশ্বাসঘাতক শত্রু পাকিস্তানের ভেতরে পাঁচটি স্থানে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে। এই ঘৃণ্য আগ্রাসনের শাস্তি থেকে তারা রেহাই পাবে না। বিনা উসকানিতে ভারতের এই হামলার বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার পাকিস্তান সংরক্ষণ করে—এবং সেই জবাব ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।’


তিনি আরো বলেন, ‘পুরো জাতি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পাশে একতাবদ্ধ। আমাদের মনোবল ও সংকল্প অটুট। পাকিস্তানের সাহসী অফিসার ও সেনাদের জন্য আমাদের প্রার্থনা রইল। পাকিস্তানের জনগণ ও বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। শক্তি ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে যে কোনো হুমকির মোকাবিলা করে শত্রুকে পরাজিত করতে তারা সক্ষম। শত্রুকে তাদের লক্ষ্য কখনোই পূরণ করতে দেওয়া হবে না।’


পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাওজা আসিফ জিও টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, হামলাগুলো করেছে জনবহুল এলাকায়। ভারত ‘সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে’ অভিযানের যে দাবি করেছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’। তাদের এই ‘লজ্জাজনক ও কাপুরুষোচিত’ হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। উপযুক্ত সময় এবং স্থানে এই হামলার জবাব দেব আমরা।’


ভারতের হামলাকে ‘পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি তার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘এই হামলা আঞ্চলিক শান্তিকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। পাকিস্তান তার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সকল উপায়ে প্রতিরোধ করবে।’


পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ‘তারা আমাদের সহ্যসীমা অতিক্রম করেছে। এ আক্রমণ অযৌক্তিক এবং পুরোপুরি অন্ধ আগ্রাসন। আমরা অবশ্যই পাল্টা হামলা চালাব...। আমাদের প্রতিশোধ হবে স্থল ও আকাশপথে।’


পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনায় উদ্বিগ্ন পুরো বিশ্ব। দেশ দুটি সৃষ্টির সময়কাল থেকে শুরু হওয়া জাতিগত দ্বন্দ্ব দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি কাশ্মিরে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানের যোগসূত্র রয়েছে দাবি করে পাল্টা হামলার ঘোষণা দিয়েছিলো ভারত। কিন্তু পেহেলগাওয়ের সন্ত্রাসী হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত যদি কোনোরকম হামলা চালায়, তার প্রতিউত্তর দেওয়া হবে পারমানবিক অস্ত্রের মাধ্যমে। এমন হুংকারকে গুরুত্ব না দিয়ে বুধবার ভারতের চালানো হামলা যেন দেশ দুটিকে টেনে নিয়ে গেল দীর্ঘ মেয়াদী যুদ্ধে। আর এত উদ্বেগ প্রকাশ করে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।


জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস’র বরাত দিয়ে তার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের সামরিক অভিযান নিয়ে মহাসচিব অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। তিনি উভয় দেশকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।’ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো সামরিক সংঘাতের ভার বিশ্ব বহন করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেছেন গুতেরেস।


জাতিসংঘের এমন বিবৃতির পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারতের ‘স্পষ্ট আগ্রাসনের’ বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করেছে তারা। বিষয়টি যে ‘বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে’, সে কথাও তারা বলেছে। পাকিস্তান বলেছে, ‘জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে পাকিস্তান নিজস্ব পছন্দমত সময় ও স্থানে এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।’


এদিকে, পাকিস্তানে ভারতের হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা ঠিক ওভাল অফিসে ঢোকার সময়ই খবরটা পেলাম। আমি মনে করছি অতীতের কিছু ঘটনার উপর ভিত্তি করে মানুষ জানত যে কিছু একটা ঘটতে চলেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে। তারা অনেক, অনেক যুগ ধরে একে অপরের সঙ্গে লড়াই করে আসছে। সঠিক করে বলা হলে, এক শতক ধরে তারা লেগে আছে বলে মনে করতে পারেন। আশা করছি এটি দ্রুতই শেষ হবে।’


রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪