আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি :
ভারত জানিয়েছে, কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর গত মাসে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী হামলার প্রতিক্রিয়ায় বুধবার ভোরে পাকিস্তানে তারা সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালিয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, ভারতীয় হামলায় তাদের ২৬জন নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং তারা এর পাল্টা জবাব দিচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনার জেরে বিশ্বের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “এটা খুবই দুঃখজনক। আমি এখনই এ বিষয়ে শুনলাম। আমার ধারণা, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে অনেকে আন্দাজ করেছিল কিছু একটা ঘটতে চলেছে। তারা বহু দশক ধরে লড়াই করছে। আশা করি এটা খুব দ্রুত শেষ হবে।”
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে বলছি, আমরা চাই এই সংকট দ্রুত সমাধান হোক। শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে আমি উভয় দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি।”
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে অভিযান চালানো নিয়ে মহাসচিব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি দুই দেশকেই সর্বোচ্চ সামরিক সংযম দেখানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। বিশ্ব একটি ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাত সহ্য করতে পারবে না।”
জাপানের মুখ্য ক্যাবিনেট সচিব ইয়োশিমাসা হায়াশি বলেন, “২২ এপ্রিল কাশ্মীরে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে জাপান। আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার সূত্র ধরে পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে ভারত ও পাকিস্তানকে আমরা সংযত থাকার এবং সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাই।”
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “ভারতের সামরিক অভিযানকে আমরা দুঃখজনক হিসেবে দেখছি। চলমান পরিস্থিতি আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার, সংযত আচরণ করার এবং এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানাই, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।”
ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার বলেন, “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারতের আছে। সন্ত্রাসীদের জানা উচিত, নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ করে তারা কোনোভাবেই রেহাই পাবে না।”
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “পাহেলগাম হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার বৃদ্ধি নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে উভয় পক্ষকে আমরা সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাই।”
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বলেন, “আমরা ভারত এবং পাকিস্তান উভয়কেই সংযত থাকার আহ্বান জানাই, যাতে উত্তেজনা আর না বাড়ে। ভারত ও পাকিস্তান দুটোই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি। দীর্ঘমেয়াদী দ্বন্দ্ব কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়, তাই আমরা সংযম কামনা করি।”
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ ভারত ও পাকিস্তানকে সংযত থাকার, উত্তেজনা প্রশমনের এবং এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে।”
বিশ্ব নেতাদের এমন প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত কেবল উপমহাদেশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব