আশিস গুপ্ত নয়াদিল্লি :
ভারতের সশস্ত্র বাহিনী বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাকিস্তানের একাধিক স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। লাহোরে অবস্থিত একটি চীনা নির্মিত HQ-9 ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ইউনিট ইসরায়েলি HAROP কামিকাজে ড্রোনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।
ভারত দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাকিস্তানের তরফে ভারতের অন্তত ১৫টি সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে আঘাত হানার প্রচেষ্টার পর এই হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, লাহোরে একটি ড্রোন ভেঙে পড়ে এবং আরও ১২টি ড্রোন গুজরানওয়ালা, বাহাওয়ালপুর, করাচি, মিয়ানো, চকওয়াল, রাওয়ালপিন্ডি ও অন্যান্য শহরের আকাশে ভূপাতিত করা হয়েছে। লাহোরে চারজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন এবং সিন্ধু প্রদেশের মিয়ানো এলাকায় একজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে ইসলামাবাদ জানিয়েছে।
লাহোরে বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওয়ালটন বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় সাইরেন বাজতে শুরু করে, মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। স্থানীয় মিডিয়া জানায়, লাহোর, করাচি ও সিয়ালকোট বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে বেসামরিক স্থাপনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এই হামলার সূত্রপাত হয় বুধবার ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মাধ্যমে, যেখানে পহেলগাঁওয়ের প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার (২৬ জন নিহত) জবাবে পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানা হয়। এর পরের রাতেই পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরসহ পাঞ্জাব ও গুজরাটের একাধিক শহর—শ্রীনগর, পাঠানকোট, লুধিয়ানা, ভাটিণ্ডা, চণ্ডীগড়, নাল, ফলোদি ও ভুজ—লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাকিস্তানের এই হামলা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত সমন্বিত অ্যান্টি-ড্রোন গ্রিড এবং রাশিয়ায় তৈরি এস-৪০০ ‘সুদর্শন চক্র’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে যায়। এই সিস্টেম ৬০০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রু ড্রোন, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তানের আগ্রাসনের জবাবে ভারত তার সামরিক প্রতিক্রিয়া একই মাত্রায় এবং একই ক্ষেত্রে দিয়েছে। লাহোরে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, এবং অন্যান্য স্থানেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাকিস্তানের মর্টার ও কামান গোলায় তিন নারী ও পাঁচ শিশুসহ মোট ১৬ জন ভারতীয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। “ভারত বাধ্য হয়ে পাল্টা গোলাবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে,” বলা হয় বিবৃতিতে।ভারতের প্রতিরক্ষা দপ্তর স্পষ্ট করে জানায়, “ভারত উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, তবে আক্রমণ হলে যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।”
এখনও পর্যন্ত দুই দেশের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা না এলেও সীমান্ত অঞ্চলে তীব্র সামরিক তৎপরতা চলছে। আকাশপথে নজরদারি ও সেনা প্রস্তুতি সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব