আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি :
পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর গভীর আঘাত এবং পরবর্তী পাল্টা সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেও, ভারত ও পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে সীমান্তে সেনাবাহিনীগুলি মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও, অন্যদিকে দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেল এখনো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি—যদিও তা এখন চরম চাপের মুখে।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং পাকিস্তানের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এনএসএ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মালিক এই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ে প্রত্যক্ষ যোগাযোগে রয়েছেন। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, “হ্যাঁ, তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে।”
এছাড়াও, ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় চার্জ দ্যা’অ্যাফেয়ার্স গীতিকা শ্রীবাস্তব পাকিস্তানের মূল কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা স্তরের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন। তবে বুধবার পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে ভারতীয় হামলার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়।
সূত্র অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও সম্প্রতি এনএসএ অজিত ডোভালের সঙ্গে আলাপ করার পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যোগাযোগের সেতু রক্ষার প্রয়াস চলছে। যদিও এই সংলাপকে হালকাভাবে মূল্যায়ন করেছেন একজন শীর্ষ ভারতীয় কর্মকর্তা। তার ভাষায়, “যোগাযোগ রাখা মানেই আলোচনায় বসা নয়।”
সামরিক দিক থেকে, ভারত এখনো পুরোপুরি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে অন্তত নয়টি লক্ষ্যবস্তুতে ভারতীয় বাহিনীর সফল হামলার পর সীমান্তজুড়ে সেনা মোতায়েন ও বিমান ঘাঁটিগুলিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে। পাকিস্তানের তরফে যেকোনো প্রতিক্রিয়া বা অগ্রগতির মোকাবিলায় ভারত প্রস্তুত বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ায় একটি অনিশ্চিত কূটনৈতিক মুহূর্ত তৈরি করেছে—যেখানে সামরিক উত্তেজনার সমান্তরালে একটি দুর্বল অথচ টিকে থাকা কূটনৈতিক সংযোগ এখন সংঘাত এড়ানোর একমাত্র ভরসা।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব