বাউফল প্রতিনিধি :
১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে হেলিকপ্টারে করে এসেছিলেন টুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মদনপুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। তৎকালীন জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক সফল সভাপতি মরহুম আঃ হক মিয়ার আহ্বানে এ সফর সম্পন্ন হয়। তাঁর উদ্যোগ ও নেতাকর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে এ বিদ্যালয়টি।
বিগত সরকারের রোষানলে পরে দীর্ঘ ১৬ বছরে এ বিদ্যালয়ে দেখা যায়নি উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। শুধুমাত্র হেডমাস্টার ও ম্যানেজিং কমিটির সীমিত কার্যক্রম ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়নে ছিল না তেমন কোনো উদ্যোগ। প্রধান শিক্ষকের ইচ্ছা থাকা সত্বেও তৎকালীন প্রভাবশালী ফ্যাসিষ্ট সভাপতির জন্য প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেনি। সভাপতি ও তার অনুসারীরা সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে বিদ্যালয়টিকে গড়ে তুলেছিলো দূর্নীতির আখড়া। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার আধুনিক যন্ত্রপাতি, পাঠাগার, খেলার মাঠ, সীমানা প্রাচীর – এসব কিছুই এখনো অনুপস্থিত।
বর্তমান সরকারের প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকেও দেখা যায়নি শহীদ জিয়ার আদর্শের প্রতি আন্তরিক কোনো দায়বদ্ধতা। এ বিষয়ে স্কুলের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ নজিরুল হক জানান, "নেতাকর্মীরা শুধু নিজেদের কাজে ব্যস্ত। তাদের মধ্যে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কোনো সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না।"
এলাকাবাসীর দাবি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক সফরের স্মৃতিচিহ্ন বহনকারী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাউফলের শ্রেষ্ঠ মডেল স্কুল হিসেবে গড়ে তোলা হোক। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২৫০-৩০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে, কিন্তু শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় তারা নানা দুর্ভোগের শিকার।
প্রসঙ্গত, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আগমন উপলক্ষে বাউফল থেকে নুরাইনপুর পর্যন্ত খাল খননের কার্যক্রম গ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন মদনপুর ইউনিয়নের সফল চেয়ারম্যান মরহুম আঃ হক মিয়া। খাল খনন কাজটি বাজেট প্রাপ্ত হলেও কাজ সম্পন্ন শেষে অর্থ উত্তোলন করতে পারেন নি। নিজের প্রবল প্রচেষ্টায় অর্থ সংগ্রহ করে খনন কাজ সম্পন্ন করেন। মাত্র চার কিলোমিটার দূরত্বে থাকা সত্ত্বেও বাউফল উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি মদনপুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হোক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতীক।