| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নিয়ে ভ্যান্সের মন্তব্যে আমেরিকান অবস্থানের স্পষ্ট সংকেত

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৯, ২০২৫ ইং | ০০:০০:০০:পূর্বাহ্ন  |  ১৭৭৯৩৮৪ বার পঠিত
ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নিয়ে ভ্যান্সের মন্তব্যে আমেরিকান অবস্থানের স্পষ্ট সংকেত
ছবির ক্যাপশন: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : 

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ঘিরে যখন দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে, তখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই উত্তেজনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৪০ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান রাজনীতিক সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেছেন, “ভারত-পাকিস্তান সংঘাত মূলত আমাদের কোনো ব্যাপার নয়।”

ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স আরও বলেন, “আমরা এই দেশগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। ভারতের পাকিস্তান নিয়ে কিছু অভিযোগ আছে, পাকিস্তান তার জবাব দিচ্ছে। আমরা চাই এই সংঘাত যত দ্রুত সম্ভব স্তিমিত হোক, তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই এমন একটি যুদ্ধের অংশ হবে না যার উপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।”

এই মন্তব্য আসার একদিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের উত্তেজনাকে “ভয়ানক” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং নিজেকে “উভয় পক্ষের বন্ধু” বলেও দাবি করেছিলেন। 

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, “আমি উভয় দেশকেই খুব ভালোভাবে জানি। আমি তাদের এটা থামাতে দেখতে চাই। যদি আমি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, আমি প্রস্তুত আছি।”জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগামে এক ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত মঙ্গলবার রাতে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালায়। ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের ভেতরে নয়টি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে আঘাত হানার দাবি করেছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তান ভারতের জম্মু, পাঠানকোট, উধমপুরসহ একাধিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে চাইলেও তা প্রতিহত করা হয়। ভ্যান্সের মন্তব্য এ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির এক নতুন রূপরেখা তুলে ধরেছে। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র নানা সময়ে মধ্যস্থতা করেছে বা হস্তক্ষেপ করেছে। কিন্তু এবার ভাইস প্রেসিডেন্টের স্পষ্ট বার্তা — “আমরা শুধু আহ্বান জানাতে পারি, চাপ সৃষ্টি করতে পারি, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না” — ওয়াশিংটনের অবস্থান যে এখন অনেক বেশি 'হাত গুটিয়ে' রাখার দিকে ঝুঁকছে, তা স্পষ্ট।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে জেডি ভ্যান্সের মতো ‘অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার’-নির্ভর নীতিনির্ধারকেরা আন্তর্জাতিক সংঘাতে সরাসরি জড়িত না হওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছেন। এর ফলে ভারত ও পাকিস্তানকে নিজেদের কূটনৈতিক এবং সামরিক সিদ্ধান্ত নিজস্ব পরিসরে নিতে হতে পারে — যা সংঘাত প্রশমনের চেয়ে নতুন সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। 

দিল্লি ও ইসলামাবাদ থেকে এখনো এই মার্কিন অবস্থানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে কূটনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই এ অঞ্চলের ‘নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক’ হয়ে যায়, তবে তা এই দুই দেশের জন্য এক বড় কৌশলগত পরিবর্তন হতে পারে। কারণ, ইতিহাস বলছে, ভারত-পাকিস্তান যখনই সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে, তখন ওয়াশিংটনের সক্রিয় ভূমিকা বা হস্তক্ষেপ উত্তেজনা হ্রাসে সহায়ক হয়েছে।এবার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য যে শুধু তাৎক্ষণিক নয়, বরং মার্কিন প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন — তা নিয়েও সন্দেহ নেই।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪