| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

তারেক রহমানের শাহবাগ ভাষণ: মানবিক রাজনীতির নতুন প্রত্যয়, না পুরনো প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি?

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৪, ২০২৫ ইং | ০৮:০৮:৫৮:পূর্বাহ্ন  |  ১৬৫৩৫৭৪ বার পঠিত
তারেক রহমানের শাহবাগ ভাষণ: মানবিক রাজনীতির নতুন প্রত্যয়, না পুরনো প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি?

শাহানুজ্জামান‌টিটু : ৩ আগস্ট ২০২৫, ঢাকার শাহবাগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি যে ভাষা ও ভঙ্গিতে বর্তমান রাজনীতির অবক্ষয় তুলে ধরেছেন এবং একটি ‘মানবিক রাজনীতি’র স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তা একদিকে যেমন সাহসী, তেমনি অন্যদিকে প্রশ্নবিদ্ধ- এটি কী শুধুই রাজনৈতিক কৌশল, নাকি বাস্তব পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

তারেক রহমান বলেছেন, “মানুষ আর প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি চায় না। মানুষ এখন মানবিক মূল্যবোধের রাজনীতি চায়।” এই বক্তব্যে তিনি রাজনীতিতে একটি নৈতিক এবং সামাজিক রূপান্তরের বার্তা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা আজ ধ্বংসের মুখে। এটি মেরামত না করলে জাতি ধ্বংস হবে। তরুণ প্রজন্মের জন্য যুগোপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি তার ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

তিনি তরুণদের উদ্দেশে স্লোগান দেন-“তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের পক্ষে হোক”, যা রাজনৈতিকভাবে নতুন ভোটারদের গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিএনপি এই নেতার বক্তব্যে কিছু ভালো দিক যেমন আছে তেমন এগুলো বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব, আদৌও সম্ভব কিনা, নাকি কেবল রাজনৈতিক কথার ফুলঝুড়ি এসব নিয়ে আলোচনা করব।‌

তার বক্তব্যের ভালো দিকগুলো মধ্যে তিনি ভবিষ্যতের প্রতি দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।

তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে সহমর্মিতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং নৈতিকতার ওপর দাঁড়ানো রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলেছেন, যা আজকের বিভাজিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় আশাব্যঞ্জক।

তার বক্তব্যে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর ও বাস্তবমুখী শিক্ষার দাবি সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি যুবসমাজকে মানসম্পন্ন মানবসম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা বলছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তার বক্তব্যে তরুণদের প্রথম ভোটের প্রতি গুরুত্ব আরোপ এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তোলার এই আহ্বান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক। 

তারেক রহমানের এই বক্তব্য চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা, কথা আর কাজে ফারাক থাকবে না তো? এমন প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে জনমনে।

তিনি এমন এক দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যার অতীত শাসনামলে দুর্নীতি, প্রশাসনিক পক্ষপাত ও রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ ছিল। এই পটভূমিতে নতুন প্রতিশ্রুতি অনেকের কাছেই সন্দেহপ্রবণ মনে হতে পারে।

তিনি যেসব কথা বলেছেন তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। তিনি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে যেসব কথা বলেছেন, তা কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন, কোন নীতির ভিত্তিতে, কতদিনে - এসবের কোনো বিস্তারিত দিক তুলে ধরেননি।

জনগণের প্রত্যাশা: প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োগ দেখতে চায়। জনগণ রাজনীতিতে সংস্কৃতি পরিবর্তন চায়। 

মানুষ এখন চায় রাজনীতিবিদরা শুধু সমালোচনায় না থেকে নিজেরা মানবিকতা ও সহনশীলতার চর্চা করুক।

তরুণদের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে যেসব কথা বলা হয়েছে, তা কাগজে না থেকে যেন বাস্তবে রূপ নেয় এটাই প্রধান প্রত্যাশা।

আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রমাণ দরকার:

মানুষ চায় কথা নয়, কাজের মাধ্যমে বিএনপি নিজেদের বদলে যাওয়ার সক্ষমতা দেখাক।


আশাবাদ ও সংশয় পাশাপাশি

তারেক রহমানের ভাষণে একটি নতুন ধরণের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে যেখানে প্রতিশোধ নয়, বরং মানবিকতা ও তরুণ নেতৃত্বের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তবে জনগণ এখন শুধুই শুনতে চায় না, দেখতে চায়- এ প্রতিশ্রুতি আদৌ বাস্তবে রূপ পাবে কি না।


তাই প্রশ্ন রয়ে যায়: বিএনপি কি সত্যিই বদলে গেছে? নাকি পুরনো চেহারাতেই নতুন মুখোশ?


শাহানুজ্জামান টিটু 

সিনিয়র সাংবাদিক । কলাম লেখক

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪