| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পাকিস্তানের নতুন ড্রোন ও গোলাবর্ষণে উত্তপ্ত জম্মু, পাঞ্জাব ও রাজস্থান

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৯, ২০২৫ ইং | ০০:০০:০০:পূর্বাহ্ন  |  ১৭৭৭৫৫৯ বার পঠিত
পাকিস্তানের নতুন ড্রোন ও গোলাবর্ষণে  উত্তপ্ত জম্মু, পাঞ্জাব ও রাজস্থান
ছবির ক্যাপশন: পাকিস্তানের নতুন ড্রোন ও গোলাবর্ষণে উত্তপ্ত জম্মু, পাঞ্জাব ও রাজস্থান


আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : শুক্রবারও পাকিস্তান নতুন করে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব এবং রাজস্থানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ড্রোন ব্যবহার এবং ভারী কামান হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরের জম্মু, সাম্বা ও রাজৌরি, পাঞ্জাবের পাঠানকোট ও অমৃতসর এবং রাজস্থানের পোখরান অঞ্চলের দিকে পরপর ড্রোন পাঠানো হয়েছে, শুক্রবারও পাকিস্তান নতুন করে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব এবং রাজস্থানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ড্রোন ব্যবহার এবং ভারী কামান হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরের জম্মু, সাম্বা ও রাজৌরি, পাঞ্জাবের পাঠানকোট ও অমৃতসর এবং রাজস্থানের পোখরান অঞ্চলের দিকে পরপর ড্রোন পাঠানো হয়েছে, যেগুলির বেশিরভাগই সফলভাবে ভারতীয় সুরক্ষা বাহিনী দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে শুধু ড্রোন পাঠানোতেই সীমাবদ্ধ ছিল না পাকিস্তানের হামলা ; উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারায় নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারী কামান দাগার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি, সাম্বা, পুঞ্চ, উরি এবং নওগাম-হান্দওয়ারা সেক্টরে শুরু হয়েছে নিয়মিত গোলাগুলি, যা স্পষ্টতই সীমান্তে সংঘাত সৃষ্টির লক্ষ্যে সংগঠিত।




এই হামলার প্রেক্ষাপটে পাঠানকোট ও জম্মু শহরে টানা দ্বিতীয় রাতে ব্ল্যাকআউট কার্যকর হয়েছে এবং সাইরেন বাজতে শোনা গেছে, যা জনমানসে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। শ্রীনগরেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। অমৃতসরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরেও ড্রোন নজরদারির পরপরই শুরু হয়েছে গোলাগুলি, যার আগে অঞ্চলজুড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এই ঘটনার প্যাটার্ন স্পষ্ট করে দেয়—পাকিস্তান কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করছে।জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন এবং জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি X-এ (পূর্বতন টুইটার) একাধিকবার আপডেট দিয়ে জানান, তিনি নিজে জম্মু শহরেই রয়েছেন এবং “বিরতিহীন বিস্ফোরণের শব্দ” শুনতে পাচ্ছেন, যা সম্ভবত ভারী কামানের আওয়াজ। তার বার্তায় স্পষ্ট যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে।তবে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—এই হামলার সময়কাল, ধরণ ও লক্ষ্যবস্তুর ধরন থেকে কী বার্তা দিচ্ছে পাকিস্তান? বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে নিজ দেশের ভেতরকার অসন্তোষ ও দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এই ধরনের সীমান্ত উসকানির আশ্রয় নিচ্ছে। তাছাড়া, ভারতীয় নির্বাচনী আবহ বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করাও হতে পারে এই আগ্রাসনের একটি লক্ষ্য।ভারতীয় সেনাবাহিনী ও সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী ইতিমধ্যেই সীমান্ত অঞ্চলে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং ড্রোন প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে সতর্কতা ও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। তবে শুধু সামরিক প্রস্তুতি নয়, এই ধরনের আগ্রাসনের পাল্টা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়াও জরুরি হয়ে পড়েছে। বারবার সংঘাত সৃষ্টি করে পাকিস্তান ভারতের ভূখণ্ডে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অপচেষ্টা করছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিপন্থী।ভারতের উচিত এখন আন্তর্জাতিক মহলের সামনে এই আগ্রাসন প্রমাণসহ তুলে ধরা এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলিকে জানানো যে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি বিনষ্ট করছে। একইসঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে চাপ সৃষ্টি করে পাকিস্তানকে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সদিচ্ছা অর্জনের প্রয়োজন।পরিশেষে বলা যায়, পাকিস্তানের এই নতুন কৌশলগত তৎপরতা শুধুমাত্র একটি সাময়িক গোলাগুলি নয়—এটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, যেখানে সীমান্ত অস্থিরতা, ভারতীয় অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে আতঙ্ক সৃষ্টি, এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করার মতো বহুস্তর বিশিষ্ট উদ্দেশ্য লুকিয়ে রয়েছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ভারতের নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং জনসচেতনতা—তিনটি স্তরেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি হয়ে উঠেছে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪