রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘জুলাই সনদের শুধু কাগজ মূল্যে আমরা বিশ্বাসী নই। এটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে সেইটার সম্পর্কে নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই আমরা স্বাক্ষর করব।’
বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
নাহিদ বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদ নিয়ে কথা বলেছি। যেহেতু জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি সেখানে অংশগ্রহণ করে নাই। ফলে আমরা আমাদের অবস্থান সরকারের কাছেও তুলে ধরেছি। ঐকমত্য কমিশনের কাছেও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা সেই কথাগুলোই পুনরব্যক্ত করেছি, জুলাই সনদের শুধু কাগজ মূল্যে আমরা বিশ্বাসী নই।’
তিনি বলেন, জুলাই সনদ আমরা একটি সাংবিধানিক আদেশের কথা বলছি। প্রধান উপদেষ্টা এ আদেশ জারি করবেন। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জনগণের যে সার্বভৌম ক্ষমতা সেটার একমাত্র বৈধতা প্রধান উপদেষ্টারই আছে। সেটার আইনি এবং রাজনৈতিক কারণ আমরা ওনার সামনে তুলে ধরেছি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘নোট অফ ডিসেন্টের বিষয়েও আমরা বলেছি। নোট অফ ডিসেন্টের কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। কেননা সবাই এই বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হয়েছে। জুলাই সনদে যেই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেগুলোতে গণভোটে যাবে এবং গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হলে পরবর্তী সংসদ সংস্কারকৃত একটি নতুন সংবিধান তৈরি করবে। এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঐকমত্য কমিশন সুপারিশ দিবে, সরকার সেই অনুযায়ী কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটার ওপর নির্ভর করে আমরা জুলাই সনদের স্বাক্ষরের বিষয়টি বিবেচনা করব।’
নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘প্রতীক না থাকলে আমরা কী নিয়ে নির্বাচন করবো! ‘শাপলা’ ছাড়া অন্য কোনও প্রতীকে আমরা নির্বাচনে অংশ নেবো না। দ্বিতীয়ত আমরা নির্বাচন কমিশনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। নির্বাচন কমিশনের গঠন প্রক্রিয়া, কমিশনের বর্তমান আচরণ আমাদের কাছে মনে হচ্ছে এটা নিরপেক্ষ হচ্ছে না। এটা স্বচ্ছ হচ্ছে না এবং নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যেভাবে কার্যক্রম করার কথা ছিল, সেটা করছে না। কিছু কিছু দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখা যাচ্ছে এবং কোনও দলের প্রতি বিমাতা সুলভ আচরণ করছে।
তিনি আরো বলেন, ‘পুরো বিষয়টি নিয়ে আমরা বলেছি— বিগত সময়গুলোতে নির্বাচন কমিশন যেই পদক্ষেপ নিয়েছে সেখানে কীভাবে নির্বাচন হয়েছে, সেভাবে হলে দায় সরকারের ওপর আসবে। আমরা সরকারকে সেই বিষয়টি অবগত করেছি। এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। উপদেষ্টা পরিষদের বিষয়েও বক্তব্য দিয়ে এসেছি। সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন দেওয়া হচ্ছে, সেক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে হচ্ছে কিনা—বিভিন্ন জায়গায় দেখতে পাচ্ছি, শুনতে পাচ্ছি, প্রশাসনে বিভিন্ন ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে। বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে এসপি, ডিসির জন্য তালিকা করে দিচ্ছে। উপদেষ্টা পরিষদের ভেতর থেকে সেই দলগুলোকে সহায়তা করছে। ফলে এভাবে চললে সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এখন পর্যন্ত অনিয়ম-দুর্নীতি ও রাজনৈতিক দলীয় পক্ষপাতের বিষয়টি যেন প্রধান উপদেষ্টা দেখেন, সে বিষয়টিও আমরা জানিয়েছি।’
রিপোর্টার্স২৪/এসসি