স্টাফ রিপোর্টার: দেশের আলোচিত সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে কি কারণে তাকে নেয়া হয়েছে তা জানায়নি পুলিশ।
আনিস আলমগীর গণমাধ্যমকে মুঠোফোনে বলেন, ‘ধানমন্ডি এলাকার একটি জিম (ব্যায়ামাগার) থেকে আমাকে নিয়ে আসা হয়। ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের প্রধান আমার সঙ্গে কথা বলবেন।’
তিনি বলেন, রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাঁকে ধানমন্ডি থেকে আনা হয়। আটটার দিকে তাঁরা ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছান। তখন থেকে অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে তখন পর্যন্ত ডিবি প্রধানের কথা হয়নি।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর দৈনিক আজকের কাগজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে টেলিভিশন টকশোতে নানা বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় ছিলেন তিনি।
এর আগে আজ (রোববার) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন আনিস। সেখানে তিনি বিদেশে পালিয়ে থাকা লেখেন এক্টিভিস্ট পিনাকি ভট্টাচার্য ও সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনকে ইঙ্গিত করে ‘দুই কুলাঙ্গার ইউটিউবার’ আখ্যা দিয়ে একটি পোস্ট দেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে আনিস আলমগীর লেখেন, ‘বিদেশে পলাতক দুই কুলাঙ্গার ইউটিউবার দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের লিপ্ত। আর তাদের এই কাজের সমালোচনা করেছি অন্তত আমি পাঁচটি প্রমিনেন্ট টেলিভিশন শোতে। তাই সেই কুলাঙ্গাররা আমার উপর প্রতিশোধ নিতে আমাকে ঘিরে পরিকল্পিত অপপ্রচারে লিপ্ত। টেলিভিশনকে হুমকি দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা প্রকাশ্যে গুপ্ত হত্যার হুমকির ভাষা ব্যবহার করছে- যা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ। দুঃখজনকভাবে, ভাইরাল হওয়ার লোভে ও লাইক-কমেন্টের আশায় কিছু বোধহীন মানুষ সেই অপপ্রচারের সুরে সুর মিলিয়ে ভিডিও ও স্ট্যাটাস দিচ্ছে। এদের মধ্যে নতুন দলের এক নেতা ও রয়েছেন যার আনিস আলমগীর, আব্দুন নূর তুষার, মাসুদ কামালকে নিয়ে কথা বলে ভাইরাল হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জেগেছে।’
তিনি লেখেন, ‘আমার দৈনন্দিন ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডকে জোর করে হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে- যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বরং হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি তার বেঁচে থাকার প্রার্থনা করে পোস্ট দিয়েছি। আল্লাহ ওদের চোখ অন্ধ করে রেখেছে সে কারণে তা দেখেনি। ওরা আমাকে আওয়ামী লীগ বানানোর জোর প্রচেষ্টায় ব্যস্ত’
সবশেষে তিনি লেখেন, ‘স্পষ্ট করে বলছি- হাদির সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই। জীবনে তার সঙ্গে আমার কথা হয়নি, দেখা হয়নি, এমনকি আহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তার নামও আমি কোথাও লিখিনি, বলিনি। রাজনীতিতে অনভিজ্ঞতার কারণে হাদি তার শত্রুদের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে এনেছিল। শত্রুরা তার সঙ্গে বসবাস করছিল। আর তার গুনগ্রাহী নামের বলদগুলা এই ধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে- প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করছে এবং সমাজে ঘৃণিত দুই ইউটিউবারের ভিউ ব্যবসা বাড়াচ্ছে, যাদের কোনো নৈতিকতা নেই, দায়বদ্ধতাও নেই- দেশ এবং সমাজের প্রতি। মিথ্যা দিয়ে সত্য ঢেকে রাখা যায় না। সময়ই এর জবাব দেবে।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব