| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

২১ দিনে ১০ বার, ট্রাম্পের ফের দাবি

"ভারত-পাকিস্তান পারমাণবিক সংঘাত ঠেকাতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ ছিল গুরুত্বপূর্ণ"

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ৩১, ২০২৫ ইং | ০৪:৪৮:৩৯:পূর্বাহ্ন  |  ১৮২৯৪৪৫ বার পঠিত
"ভারত-পাকিস্তান পারমাণবিক সংঘাত ঠেকাতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ ছিল গুরুত্বপূর্ণ"
ছবির ক্যাপশন: "ভারত-পাকিস্তান পারমাণবিক সংঘাত ঠেকাতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ ছিল গুরুত্বপূর্ণ"

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ওভাল অফিসে বিশিষ্ট প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এলন মাস্কের সঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফের দাবি করেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে তার প্রশাসনের কূটনৈতিক তৎপরতা মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, মার্কিন হস্তক্ষেপ একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাত রোধে সহায়ক হয়েছিল।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধ করা থেকে থামিয়েছি। আমার বিশ্বাস, এটি একটি ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারত।" তিনি দুই দেশের নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রশাসনের মধ্যস্থতাকে এই পরিস্থিতি শান্ত করার ক্ষেত্রে কার্যকর বলে অভিহিত করেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, "যারা একে অপরের দিকে গুলি চালায় এবং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে, তাদের সঙ্গে আমরা ব্যবসা করতে পারি না।" তিনি বাণিজ্যকূটনীতিকে সংঘাত প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন এবং জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠায় উভয় দেশের সহযোগিতা প্রশংসনীয়।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ঘিরে ভারতের পক্ষ থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বারবার জানিয়ে এসেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণরূপে একটি দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্ত, যা ভারত ও পাকিস্তানের ডিজিএমওদের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। নয়াদিল্লি বরাবরই তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।

ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা তুঙ্গে। কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনতে বলেন, “এটা নবমবারের মতো ট্রাম্প দাবি করলেন যে তিনি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই বিষয়ে নীরবতা এখন অসহনীয়।”

কংগ্রেসের অপর নেতা জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন, “২১ দিনে দশবার ট্রাম্প এই দাবি করলেন। মোদী সরকারের উচিত এখনই মুখ খোলা।”

সৌদি আরবে আয়োজিত ‘সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরাম ২০২৫’-এ অংশগ্রহণের সময়ও ট্রাম্প একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “তারা (ভারত ও পাকিস্তান) এখন বেশ ভালো আছে। হয়তো আমরা তাদের একসঙ্গে ডিনারে পাঠাতে পারি। এটা দারুণ হবে না?”

তিনি আরও বলেন, “এই সংঘাত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যেতে পারত। আমরা সময়মতো হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত। বাণিজ্য এবং নেতৃত্ব—এই দুইয়ের মাধ্যমেই আমরা ইতিহাস গড়েছি।”

ট্রাম্পের এই দাবি তাঁর প্রশাসনের বিশ্ব কূটনীতিতে বাণিজ্যকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। যদিও নয়াদিল্লি এ ধরনের তৃতীয় পক্ষীয় ভূমিকাকে অস্বীকার করে আসছে, তবে ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান এবং মার্কিন প্রশাসনের ভবিষ্যৎ বক্তব্য—উভয়ই দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪