গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী শুক্রবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে মহানগরীর দীর্ঘতম ও প্রাচীন মোগর খাল পুনরুদ্ধার ও খনন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
এসময় তিনি খালটির কোল ঘেষে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁদামাটির পথ পায়ে হেঁটে ঘুরে ঘুরে কাজের মান যাচাই করেন।
শুক্রবার (৩০ মে) সকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস থেকে মোগর খাল পুনরুদ্ধার ও খনন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু করেন। তিনি মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত দীর্ঘ পথ হেঁটে খননকাজ দেখেন। এসময় তিনি বৃষ্টির কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পানি জমে জলাবদ্ধতার কারণ ও প্রতিকার জানার চেষ্টা করেন।
এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের সচিব আমিন আল পারভেজ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো: সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ, রাসেল, সহকারী প্রকৌশলী আশরাফ হোসেন, মাইদুল ইসলাম, মাহমুদা আক্তার এবং কাজ বাস্তবায়নে সহায়তাদানকারী সেনাবাহিনীর সদস্য ও অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তারা।
এ সময় প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রাথমিকভাবে খাল থেকে ময়লা অপসারণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে খালের বিভিন্ন অংশে ভেকু (খননযন্ত্র) পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় কিছু জায়গায় খননকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খালের প্রস্থ বৃদ্ধি করে স্থায়ী সম্প্রসারণ কাজ শুরু হবে।
চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ঘুরে দেখে প্রশাসক অভিযোগ করেন, বিআরটি প্রকল্পে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ নকশা ও ভুল বাস্তবায়ন এই সমস্যার অন্যতম কারণ। তিনি জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন নিজস্ব উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
প্রশাসক আরো বলেন, এই খাল শুধু একটি পানি চলাচলের পথ নয়, এটি নগরবাসীর ভবিষ্যতের নিরাপত্তা, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। আমরা পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখেছি, খালের মধ্যে পলিথিন, লেপ, তোশক, বালিশ, এমনকি গৃহস্থালী সামগ্রীর স্তূপ পাওয়া যাচ্ছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের সকলকে আরো সচেতন হতে হবে।
এ সময় তিনি নগরবাসীর উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, আপনারা যদি সচেতন থাকেন, খালের পাশে ময়লা না ফেলেন এবং আমাদের পাশে থাকেন, তবে গাজীপুর একদিন পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরীতে পরিণত হবেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পরিবেশবাদীরা জানান, গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে মোগর খালটি পূর্ব চান্দনা, খাইলকুর, হায়দারাবাদ প্রভৃতি এলাকা অতিক্রম করে হায়দারাবাদ খালে মিলিত হয়। পরে এটি নিমতলী খাল হয়ে টঙ্গী নদীতে পতিত হয়। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে এই খালটি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এটি সবচেয়ে বেশী অবৈধ দখল ও দূষণের শিকার। বিভিন্ন কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, অবৈধ দখল এ খালটি তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছিল। এ কারণে স্থানীয় এবং ঢাকার বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন, খালপাড়ের মানুষ এই খালটির সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খননের দাবি জানিয়ে আসছিল। এমনি দাবির প্রেক্ষিতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় খালটির সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ খনন ও ময়লা অপসারণ এর কাজ শুরু করেছে।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস