শাহানুজ্জামান টিটু :
বিএনপির বর্তমান সংশোধিত গঠনতন্ত্র এবং দেশের পরিবর্তিত আইনি ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের চেয়ারম্যান হতে গঠনতান্ত্রিক ও আইনি কোনো বাধা নেই।
তবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সম্মতি নিতে হবে।
অথবা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে যদি দল কাউন্সিল আয়োজন করে, তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন—এমনটাই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটি বর্তমানে সাত দিনের শোক পালন করছে। এমন অবস্থায় দলের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে কোনো আলোচনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক শীর্ষ নেতা। পরিস্থিতি অনুকূলে হলে পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তারা জানান।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, দলটি নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই দলের স্থায়ী কমিটি তাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেবে। এরপর উপযুক্ত সময়ে দলের কাউন্সিলের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।
রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ও অপরিহার্যতা
বিএনপির তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বর্তমানে তারেক রহমানই দলের একমাত্র গ্রহণযোগ্য শীর্ষ নেতা।
দলের সব স্তরের নেতাকর্মীরা তাকে ‘ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিএনপিতে তার নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। ফলে চেয়ারম্যান হওয়াটা তার জন্য এখন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী
১. গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারা বাতিল (২০১৮)
বিএনপির মূল গঠনতন্ত্রে আগে একটি বিধান (ধারা ৭) ছিল—কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি দলের নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না। কিন্তু ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের ঠিক আগে একটি বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে এই ধারাটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়।
ফলাফল: এই সংশোধনের ফলে তারেক রহমান বা খালেদা জিয়ার সাজা থাকা সত্ত্বেও তাদের দলীয় পদে থাকতে কোনো অভ্যন্তরীণ বাধা নেই।
২. ভারপ্রাপ্ত থেকে পূর্ণ মেয়াদে উত্তরণ
গঠনতন্ত্রের ৮(গ) ধারা অনুযায়ী, চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে তারেক রহমান যদি পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হতে চান, তাহলে তাকে একটি জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে হবে।
গঠনতন্ত্রে ভারপ্রাপ্ত ও পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের ক্ষমতার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য রাখা হয়নি। ফলে তিনি বর্তমানে কার্যত সব ক্ষমতাই ভোগ করছেন।
৩. আইনি পরিস্থিতির পরিবর্তন (২০২৪–২৬ প্রেক্ষাপট)
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর এবং ২০২৫–২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের ওপর থাকা আগের অনেক আইনি বাধা অপসারিত হয়েছে।
মামলা থেকে অব্যাহতি: জুলাই অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে আদালতের মাধ্যমে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অনেক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার সাজা বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।
নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা: ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরেন এবং নির্বাচন কমিশন তাকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে এখন তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে এবং দলের যেকোনো শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হতে আইনি ভাবেও স্বাধীন।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[ আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ও শ্রদ্ধাশীল। এই বিভাগে লেখকের ‘মতামত’ একান্তই তার নিজস্ব; যার দায়ভার রিপোর্টার্স২৪ বহন করে না। ধন্যবাদ]