ইমতিয়াজ আহমেদ, দামুড়হুদা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা জয়নগর সীমান্তে চেকপোস্টে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এ্যাডভোকেট বিকাশ কুমার ঘোষ ভারত থেকে ফেরার পথে দর্শনা ইমিগ্রেশনে স্ত্রী কন্যাসহ আটক হয়েছে।
শনিবার (৩১ মে) বিকাল ৪ টার দিকে তাকে আটক করে দর্শনা থানায় সোপর্দ করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে ঝিনাইদহ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ইমিগ্রেশন সুত্রে জানাগেছে, গত ১৩ মে দর্শনা ইমিগ্রেশন দিয়ে স্ত্রী রুপা রাহুত ও কন্যা অহনা ঘোষকে নিয়ে ভারতে গিয়েছিল এ্যাডভোকেট বিকাশ কুমার।
ইমিগ্রেশন সুত্র জানায়, গত ১৩ মে অ্যাডভোকেট বিকাশ কুমার ঘোষ স্ত্রী সন্তান নিয়ে দর্শনা চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে যান। ১৭ দিন ভারতে অবস্থানের পর শনিবার বিকাল ৫টার দিকে তিনি একই পথে দেশে ফিরে আসার পর দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন, দর্শনা ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ এসআই রমজান আলী।
জানাগেছে, আ’লীগ নেতা বিকাশ কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ থানায় ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট একটি মামলা হয়, জি আর নং-৪০৯। তবে তার নামে মামলা থাকলেও তিনি জামিনে ছিলেন। কিন্তু দর্শনা ইমিগ্রেশনে তিনি কালো তালিকাভুক্ত থাকায় তাকে আটক করা হয়।
আরও জানাগেছে, বিকাশ কুমার ঘোষ আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এমপি আনার অপহরণ মামলার আসামী সাইদুল করিম মিন্টুর আস্থাভাজন ছিলেন। সেই সুবাদে তিনি অল্প সময়ে ঝিনাইদহ জেলা জজ আদালতের জিপি পদে নিয়োগ পান। আইন কর্মকর্তা হয়ে বিকাশ কুমার ঘোষ আদালতে প্রভাব বিস্তার করে কালো টাকার পাহাড় গড়ে তোলেন। এর মধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটী ইউনিয়নের মহামায়া গ্রামে হিন্দুদের কয়েক’শ বিঘা অর্পিত সম্পত্তি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালতে স্থানান্তর করে প্রভাব খাটিয়ে সরকারের বিপক্ষে রায় করিয়ে নেন।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ শহীদ তিতুমীর বলেন, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এ্যাডভোকেট বিকাশ কুমার ঘোষ ভারত থেকে ফেরার পথে দর্শনা ইমিগ্রেশনে স্ত্রী কন্যাসহ আটক হয়। তার বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ থানায় একটি মামলা রয়েছে। তবে সেই মামলায় তিনি জামিনে আছেন। তাদেরকে ঝিনাইদহ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।