মাঝসমুদ্রের মানুষ
একটা ঝড় এসেছিল
হঠাৎ, নামহীন, দিকচিহ্নহীন,
আমার শান্ত বিকেলের আকাশ ছিঁড়ে
আমাকে ছুঁড়ে ফেলেছিল মাঝসমুদ্রে।
আমি তখনও মানুষ,
স্বপ্ন ছিল, ঠিকানাও ছিল,
কিছু হাত ছিল ধরার মতো
কিন্তু ঝড়ের পর দেখি
সব হাতই দূরের দ্বীপ হয়ে গেছে।
ঢেউগুলো ছিলো শুধু জল ছিল না,
ছিল অভিযোগ,
ছিল অপবাদ,
ছিল সেই সব চোখ
যারা আমাকে দেখে বলে
‘ও বদলে গেছে।’
কেউ দেখে না
আমি বদলাইনি,
আমি শুধু বাঁচতে গিয়ে
ডুবে না যাওয়ার চেষ্টা করছি।
আমার কণ্ঠে লবণ লেগে আছে,
তাই কথা কাঁপে।
আমার চোখে ঝড়ের বালি,
তাই দৃষ্টি ঝাপসা।
তবু সবাই ভাবে
আমি অভিনয় করছি।
ভালো একটা জীবনের আশায়
যখন ভাঙা কাঠ জোড়া দিই ভেলায়,
তখনই কেউ বলে প্রতারক।
আমি যখন সত্যি বলতে যাই,
তখন শব্দগুলো ডুবে যায় জলের নিচে,
আর ওপরে ভেসে ওঠে শুধু
মিথ্যাবাদী শব্দটা।
হয়রে জীবন
তুই কি সমুদ্রই ছিলি সবসময়?
আমি কি ভুল করে ভেবেছিলাম
এটা ছিল একটা নদী?
তবু জানিস—
আমি এখনও ডুবিনি।
বুকের ভেতর কোথাও
এক ফোঁটা আলো জ্বলে
হয়তো তীর নেই,
তবু ভোর আছে।
যদি কোনোদিন ঝড় থামে,
যদি আকাশ আবার নিজের নাম মনে করে,
তবে হয়তো কেউ দেখবে
আমি প্রতারক ছিলাম না,
আমি শুধু একজন মানুষ ছিলাম
ঝড়ের ভেতর বেঁচে থাকার চেষ্টায়।